বিল নিয়ে তর্কের জেরে গ্রাহকের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল পল্লী বিদ্যুৎ

প্রকাশিত: ৯:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৬

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এক গ্রাহকের বসতঘরের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের স্বপন মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ না থাকায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিবারটি চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ স্বপন মিয়া একসঙ্গে ৩ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর অক্টোবর মাসের জন্য ৮৭০ টাকা বিল আসে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডিং কাম মেসেঞ্জার (এমআরসি) রাশেদ মিয়া বিল পৌঁছে দিতে স্বপন মিয়ার বাড়িতে যান। সে সময় বিলের পরিমাণ বেশি হওয়া নিয়ে স্বপন মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তারের সঙ্গে রাশেদ মিয়ার কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

ঘটনা সম্পর্কে আসমা আক্তার জানান, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাড়িতে থাকেন। তাঁদের তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে এবং একমাত্র ছেলে মাদ্রাসায় থাকে। বাড়িতে একটি ফ্রিজ, দুটি লাইট ও ফ্যান চলায় এত বেশি বিল আসার কথা নয়। বিল বেশি আসার কারণ জানতে চাইলে রাশেদ মিয়া তাঁকে অফিসে কথা বলতে বলেন। জবাবে আসমা বলেন, 'আমি কেন অফিসের লোকজনের কাছে যাব? আপনি বিল লিখে নিয়ে যান। আপনারা যে হিসাব দেবেন, সেই অনুযায়ী বিল আসে।' তিনি কোনো গালিগালাজ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করার কথা অস্বীকার করেন। আসমা জানান, এরপর রাশেদ মিয়া ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে চলে যান এবং বিকেলে মোটরসাইকেলে একজন বয়স্ক লোককে নিয়ে আসেন। মিটার পরীক্ষার কথা বলে তাঁরা বিদ্যুৎ-সংযোগ কেটে দেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে থাকা মাছ-মাংসসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, বিল দিতে গেলে গ্রাহক তাঁদের কর্মীকে গালিগালাজ করেন। ঘটনার পর রাশেদ মিয়া বিষয়টি আदर्शनগর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমানকে জানান। ইনচার্জ হামিদুর বিষয়টি মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইমদাদুল হককে অবহিত করলে তাঁর নির্দেশে বিকেলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ হামিদুর রহমান জানান, রাশেদ মিয়া তাঁকে জানিয়েছেন গ্রাহক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন এবং ডিজিএমের হাত কেটে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে ডিজিএম ইমদাদুল হক জানান, গ্রাহকের মিটার ও রিডিংয়ে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু কর্মীদের গালিগালাজ ও তাঁর হাত কেটে ফেলার হুমকির অভিযোগ পেয়েই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এমন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার নিশ্চয়তা পেলে সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিটার রিডার রাশেদ মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিষয়টিতে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও কলমাকান্দা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম শাহ আলম প্রথমে অবহিত ছিলেন না বলে জানান। তবে তিনি মন্তব্য করেন, এভাবে গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ঠিক হয়নি; গ্রাহককে বুঝিয়ে বললে তিনি নিশ্চয়ই বুঝতেন। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে শাহ আলম জানান, কর্মীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগের ভিত্তিতে ডিজিএম সংযোগ বিচ্ছিন্নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি ইতোমধ্যেই মোহনগঞ্জের ডিজিএমকে স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিদ্যুৎ-সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।