ফরিদপুরে জুতা মেরামতের আয় দিয়েই টানাপোড়েনের সংসার সুকুমারের প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০২৬ ফরিদপুর শহরের কুমার নদের পাড়ে ময়রাপট্টি এলাকায় একটি স্যানিটারি পণ্যের দোকানের সামনে রাস্তার ধারে বসে জুতা ও স্যান্ডেল মেরামতের কাজ করেন ৫০ বছর বয়সী সুকুমার রবিদাস। তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি পেকে সাদা হয়ে গেছে, কপালে স্পষ্ট বলিরেখা। প্রায় ৪০ বছর ধরে জুতা সেলাই, রং ও পলিশের কাজ করে আসছেন তিনি। এই পেশাটি তিনি পেয়েছেন তাঁর বাবা ও দাদার কাছ থেকে, যা বংশপরম্পরায় চলে আসছে। সুকুমারের চার সদস্যের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। তাঁর স্ত্রী শোভারানী রবিদাস গৃহিণী, মেয়ে টুম্পা এসএসসি পাস করেছে এবং ছেলে মনোজ অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। সুকুমারের ভাষ্যমতে, তিনি সকাল ১০টার দিকে কাজে বসেন এবং বাড়ি ফেরেন রাতে। তাঁর দৈনিক আয় খুব একটা ভালো নয়। কোনো দিন ৫০০ টাকা, আবার কোনো দিন ৩০০ টাকা বা তার চেয়েও কম আয় হয়। তিনি জানান, দিনে ৮০০ টাকার কমে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। একসময় হাতে বানানো জুতা-স্যান্ডেলের বেশ চাহিদা থাকলেও বর্তমানে বাজারে মেশিনে তৈরি জুতার ভিড়ে এই পেশার মানুষরা টিকে থাকার লড়াই করছেন। আগে মানুষ বায়না দিয়ে ৫-১০ ডজন জুতা বানিয়ে নিত, কিন্তু এখন মাসে মাত্র ১৮-২০ জোড়ার বায়না পাওয়া যায়। অনেক সময় গ্রাহক জুতা নিতে না আসায় সেগুলো অবিক্রীত থেকে যায়। রবিদাস পল্লিতে সুকুমারের পরিবার থাকে মাটির ভিটা ও টিনের চালের একটি জরাজীর্ণ ঘরে। এই পল্লিতে মোট ৪৭টি পরিবার বসবাস করে। ১৯৬৫ সালে সরকার তাদের বর্তমান স্থানে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেও, ২০১২ সালে উচ্ছেদ অভিযানের সময় সুকুমারের ঘরসহ ১৩টি ঘর ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে মামলার মাধ্যমে তারা পুনরায় সেখানে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন। এই পেশায় নতুন প্রজন্মের আগ্রহের অভাব রয়েছে। পাকিস্তান আমল ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ময়রাপট্টিতে ২০-২৫ জন কারিগর বসলেও বর্তমানে মাত্র চারজন অবশিষ্ট আছেন। সুকুমার তাঁর ছেলেকে এই পেশায় আসতে দিতে চান না, তবে তিনি মনে করেন, এই সম্প্রদায় যতদিন থাকবে, ততদিন এই পেশা পুরোপুরি হারিয়ে যাবে না। এত অভাব-অনটনের মাঝেও সুকুমার তাঁর কাজকে ভালোবাসেন। অর্ডার না থাকলেও নিজের আনন্দে রাত জেগে নতুন জুতা তৈরির কাজ করেন তিনি। SHARES জাতীয় বিষয়: জীবনসংগ্রামজুতা মেরামতপেশাফরিদপুরসুকুমার রবিদাস