সাভারে নব্য জেএমবির বোমা ও বিশেষ অ্যাপের তথ্য ফাঁস প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬ সাভারে একের পর এক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির একটি চক্রের বিষয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও টাকা লেনদেনে সাধারণত অপ্রচলিত ওয়েবসাইট ও অ্যাপ ব্যবহার করেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার এক সদস্যের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের চলাফেরা, বোমা বহন ও হামলার কৌশল সম্পর্কেও নতুন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মোহাম্মদ আরিফকে গ্রেপ্তার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে নব্য জেএমবির সদস্যদের যোগাযোগ ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে এসব তথ্য জানা গেছে। আরিফ জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য ‘প্রটেকটেড টেক্স’ বা পিটি নামে একটি ওয়েবসাইট এবং টাকা লেনদেনের জন্য ‘ইলিমেন্ট’ নামে একটি অ্যাপ ব্যবহার করতেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সূত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আরিফসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের চলাফেরার ধরনে মিল পাওয়া গেছে। তাঁরা সাধারণত পিঠে ব্যাগ নিয়ে চলাফেরা করেন, যাতে বোমা, অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি রাখা হয়। কোথাও তল্লাশির মুখে পড়লে এসব অস্ত্র দিয়ে তাৎক্ষণিক হামলা চালিয়ে তাঁরা পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। মঙ্গলবার হেমায়েতপুর থেকে গ্রেপ্তারের সময় আরিফের ব্যাগ থেকে পাঁচটি জিআই পাইপ বোমা, ছুরিসদৃশ তিনটি বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছেন এবং মামলাটি বর্তমানে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকার একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১টি পাইপবোমা ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পরদিন বুধবার সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের মাঠে প্লাস্টিকের ড্রামে মোড়ানো একটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা উদ্ধার করে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় উদ্ধার হওয়া বোমায় একই ধরনের বিস্ফোরক দ্রব্য, বিয়ারিং বল ও সার্কিট সুইচ পাওয়া গেছে। এসব বোমায় ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপার–অক্সাইড (টিএটিপি) ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি ঘটনায় নব্য জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় মামুন ওরফে ‘বোমারু’ মামুন, শেখ আল আমিন, মোহাম্মদ আরিফ, রাকিব ও বাপ্পী জড়িত বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর মধ্যে পলাতক মামুন এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া গত ২১ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত রাকিবকেও শনাক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। SHARES জাতীয় বিষয়: জঙ্গিনব্য জেএমবিবোমা উদ্ধারসাভারসিটিটিসি