ঝিনাইদহে বিক্রেতাহীন চায়ের দোকান: বিশ্বাসের ওপর ভরসা করে চলছে ব্যবসা

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চারাতলা বাজারে এক ব্যতিক্রমী চায়ের দোকানের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে কোনো দোকানদার বা মালিক থাকেন না। গত চার বছর ধরে এই দোকানটি সম্পূর্ণভাবে ক্রেতাদের সততা ও বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। দোকানের প্রকৃত মালিক সমসের আলী পাশের ভালকি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দোকানের পাশাপাশি অন্য ব্যবসায় জড়িত থাকায় সবসময় এখানে উপস্থিত থাকতে পারেন না।

প্রতিদিন সকালে সমসের আলী নিজেই দোকানে এসে মালামাল গুছিয়ে চুলা জ্বালিয়ে দিয়ে যান। এরপর দুপুরের দিকে এবং রাতে তিনি একবার করে এসে বেচাকেনার টাকা সংগ্রহ করেন এবং দোকান বন্ধ করেন। দোকানের মালামাল ফুরিয়ে গেলে তিনি নিজে কিনে এনে রাখেন। সমসের আলীর ছেলে থাকলেও সে চায়ের দোকানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়, তাই তিনি মানুষের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই এই ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তাঁর প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬৫ বছর বয়সী হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তি দোকানে বসে চা বানাচ্ছেন। দোকানে উপস্থিত অন্য ক্রেতারা জানান, তারা কেউই দোকানের মালিক নন। কেউ চা পান করতে এলে নিজেই তৈরি করছেন এবং অন্যদেরও বানিয়ে দিচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও বিস্কুট নিয়ে যাওয়ার সময় ক্রেতারা হিসাব করে দোকানের নির্ধারিত স্থানে টাকা রেখে যাচ্ছেন। কারো কাছে টাকা না থাকলেও তারা হিসাব লিখে রেখে পরে এসে পরিশোধ করে যান।

পায়রাডাঙ্গা গ্রাম থেকে আসা মতলেব হোসেন জানান, তিনি প্রায়ই বাজারে আসেন এবং দোকানদার না থাকলে নিজেই নিজের প্রয়োজন মিটিয়ে নেন। আফাঙ্গীর হোসেন নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দোকানের মালিক বিশ্বাস করে দোকান খোলা রেখে চলে যান, আর ক্রেতারাও অত্যন্ত সততার সাথে টাকা রেখে যান। এখানে টাকা ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা প্রায় অকল্পনীয়। বাজারের লোকজন ও স্থানীয়রা এই দোকানদারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস এবং ক্রেতাদের সততার দৃষ্টান্ত দেখে মুগ্ধ।