সংস্কার নিয়ে যারা কথা বলছেন, ১৭ বছর কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬

বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি জনগণ ধানের শীষ তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছে। যেহেতু এটি জনগণের সরকার, তাই বিএনপি জনগণের অন্ন সংস্থানসহ সব ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর বর্তমান সরকার কর হ্রাস করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে। অতীতে বাজেট দেওয়ার পরদিনই জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যেত, যা বর্তমান সরকার রোধ করতে চায়।

ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের ৫৫৩টি উপজেলার প্রতিটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেলা হাসপাতালে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে অনেক রটনাকারী ও বিভ্রান্তকারী রয়েছে, যাদের অতীত কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখতে হবে। তিনি বলেন, ৭১, ৮৬ এবং ৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল তা দেশবাসী দেখেছে। যারা আজ বড় বড় কথা বলছেন এবং সংস্কারের দাবি তুলছেন, বিগত ১৭ বছর তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিএনপি ২০২২ সালেই সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছিল, তখন এই সংস্কারপন্থীরা কোথায় ছিলেন? তিনি জনগণকে কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন বক্তব্য রাখেন। এর আগে বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৭ কোটি টাকার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।