শিক্ষিকার মনে রয়ে গেল শানের শেষ প্রশ্নটি

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬

‘ম্যাম, প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষায় আমি কত পেয়েছি?’—কয়েক দিন আগেও প্রশ্নটি ছিল নিতান্তই স্বাভাবিক। এখন সেই প্রশ্নটিই বারবার ফিরে আসছে শিক্ষিকা সুমাইয়া বেগমের মনে। যাকে নম্বরটি জানানোর কথা ছিল, সেই শান আর নেই। চট্টগ্রাম মডার্ন স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ছিল এক। ১০ আগস্ট জীববিজ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষার খাতাও জমা দিয়েছিল সে। তখন কে জানত, সেই খাতাটিই কিছুদিনের মধ্যে তার কাছে শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে।

পরদিন ম্যামের কাছে নিজের প্র্যাকটিক্যালের নম্বর জানতে চায় শান। সাধারণত পরীক্ষা দেওয়ার পর নিজে থেকে নম্বর জানতে চাইত না সে। ম্যামকে শান বলেছিল, ‘ম্যাম, আপনি বলছেন এবার আমি বাসায় ভালো করে পড়ছি, পরীক্ষায়ও লিখছি। তাই নম্বরটা জানতে চাইছি। নম্বর জানালে খুশি হতাম।’ প্রিয় শিক্ষার্থীর সেই কথাগুলো এখন শিক্ষিকার কাছে বিষাদের স্মৃতি হয়ে উঁকি দিচ্ছে। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে সুমাইয়া বেগম লেখেন, ‘শান, তোমার প্র্যাকটিক্যালের নম্বর হয়তো আর তোমাকে বলা হলো না।’ তিনি আরও লেখেন, একজন শিক্ষক হিসেবে ছাত্রের খাতা দেখা ও ফল জানানো স্বাভাবিক কাজ, কিন্তু শানের খাতাটি এখন শুধুই একটি স্মৃতি।

চট্টগ্রামের হালিশহরের চুনা ফ্যাক্টরি এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়েদ মুনিফ আহমেদ শান, যার আদি বাড়ি সন্দ্বীপে। ফুটবল খেলতে ভালোবাসত এই শিক্ষার্থী। ৯ আগস্ট স্কুলে পরীক্ষা ছিল তার। এক ঘণ্টার মাথায় খাতা জমা দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সে পতেঙ্গা সৈকতে যায়। বিকেল তিনটার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সন্ধ্যা গড়িয়েও সে বাড়ি ফেরেনি।

ছেলের খোঁজে সারা রাত ছোটাছুটি করেন বাবা মাহবুবুর রহমান। বন্ধুদের দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে এবং সেই রাতেই হালিশহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। তিনদিন পর পতেঙ্গা থানা-পুলিশ সাগর থেকে একটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ উদ্ধার করে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে পরিবার শানের লাশ শনাক্ত করে। এ ঘটনায় শানের চার বন্ধুকে আসামি করে হালিশহর থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ চারজনকেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষেই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।