কৃষিপণ্য আমদানি নির্ভরতা শূন্যে নামাতে চান কৃষিমন্ত্রী প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২৬ কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা থেকে দেশকে পর্যায়ক্রমে বের করে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানিয়েছেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সংরক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি সন্তোষজনক বলেও উল্লেখ করেন তিনি। গতকাল কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেইজে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন। আলাপে মন্ত্রী দেশের সার্বিক কৃষি পরিস্থিতি, সারের মজুত এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। দেশে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, বর্তমানে চাহিদার চেয়েও অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। সারের কৃত্রিম সংকটের কথা বলে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তারা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কৃষকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে পাইলট পর্যায়ে প্রায় ১৪ লাখ কৃষকের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া গত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ের নানা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৫ লাখ গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি চারা রোপণ করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৭৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৭৫ দশমিক oxi কিলোমিটারের কাজ শেষ হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত দেশে কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে সংরক্ষণের অভাবে পেঁয়াজ নষ্ট হলেও এখন আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ছয় মাস পর্যন্ত তা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তিনি আরও জানান, পেঁয়াজবীজ, পাটবীজ ও আদার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমাতেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য সুখবর দিয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামের নতুন একটি ধানের জাতের চাষ শুরু হবে। এই জাতটি প্রচলিত সময়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই রোপণ করা সম্ভব, যা হাওরের ফসলকে আগাম বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া কৃষকদের সেচ খরচ কমাতে দেশের সব সেচ পাম্প সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি। SHARES জাতীয় বিষয়: কৃষক কার্ডকৃষি মন্ত্রণালয়কৃষিমন্ত্রীমোহাম্মদ আমিন উর রশিদসার মজুতসৌরবিদ্যুৎ সেচ পাম্প