আদালতকক্ষে আইনজীবীর সঙ্গে সাহেদের বিরিয়ানি ভোজন, রিজেন্ট মামলার সাক্ষ্য পেছাল

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়ে গেছে। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন আগামী ৪ অক্টোবর।

এদিকে আজ দুপুরে আদালতকক্ষে এক ভিন্নধর্মী দৃশ্য দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এজলাসে বিচারকের অনুপস্থিতিতে আসামি সাহেদ ও তাঁর আইনজীবীকে একসঙ্গে বসে বিরিয়ানি খেতে দেখা যায়। পরে আদালতের পেশকার মো. জাহিদুল জানান, সাহেদের আইনজীবী এ বিষয়ে বিচারকের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়েছিলেন। খাওয়া শেষ হওয়ার পর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সাহেদকে আদালতকক্ষ থেকে বের করে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী এই মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী। মামলায় প্রাথমিকভাবে আবুল কালাম আজাদের নাম না থাকলেও তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর করেন। এছাড়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমের ল্যাবে ৩ হাজার ৯৩৯ জন করোনা রোগীর নমুনা বিনামূল্যে পরীক্ষা করান। পরবর্তীতে ওই নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। পাশাপাশি রিজেন্ট হাসপাতালের মিরপুর ও উত্তরা শাখার চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ড বয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের মাসিক খাবার খরচ বাবদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুয়া চাহিদা তৈরি করে তা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।

২০২২ সালের ১২ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি ১২ নম্বর সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আজ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। ফলে দুদকের প্রসিকিউটর মো. নূরে আলম সময়ের আবেদন করেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন।

শুনানির সময় কারাগার থেকে আসামি সাহেদকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা অপর পাঁচ আসামি যথাক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক আমিনুল হাসান, উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ইউনুস আলী, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল-১) শফিউর রহমান ও গবেষণা কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম আদালতে হাজিরা দেন। এছাড়া, ২৩ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাহেদকে আজ ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।