হাতকড়াসহ পালানো সেই আওয়ামী লীগ নেতা ১০ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশের হাতকড়া পরা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাধবদী গ্রামে তাঁর বাড়ির পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়ও তাঁর দুই হাতে হাতকড়া ছিল। রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মাধবদী গ্রামের প্রয়াত ইল্লাল মিয়ার ছেলে। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ রেনু মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তখন ঘরের ভেতরেই পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরায়। পরে বাড়ির উঠানে আনার পর সেখানে স্থানীয় লোকজন, বিশেষ করে নারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ গ্রামবাসী রেনু মিয়াকে ঘিরে ফেললে সেই সুযোগে তিনি হাতকড়া পরা অবস্থাতেই দৌড়ে পালিয়ে যান। পুলিশ তাঁকে ধরার জন্য পিছু নিলেও বাড়ির পেছন দিয়ে তিনি দ্রুত চোখের আড়ালে চলে যান। রেনু মিয়া পালানোর পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে। বিভিন্ন প্রবেশপথে পুলিশের অবস্থান এবং সাদা পোশাকে ও মোটরসাইকেলে টহল দলের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ রেনুর পরিবারের বড় মেয়ে ও বোনসহ সাত সদস্যকে থানায় নিয়ে আসে। এর মধ্যে তিনজন নারীর সঙ্গে শিশুসন্তান ছিল এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, রেনুর কাছে মুঠোফোন না থাকায় পরিবারের সদস্যদের থানায় নেওয়ার খবর তিনি জানতেন না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যদের বিপদের আশঙ্কায় তিনি নিজেই ধরা দেন। কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শারফিন মিয়া জানান, রেনুকে গ্রেপ্তারে পুলিশ মরিয়া ছিল এবং বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১০ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে আবার হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ হেফাজতে রেনু মিয়া জানান, হঠাৎ পুলিশ দেখে তিনি ভয় পেয়েছিলেন এবং গ্রামবাসী তাঁকে ঘিরে ফেলায় পালানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু হাতকড়া নিয়ে গ্রাম ছাড়া সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা দেন। পুলিশ জানিয়েছে, রেনু মিয়ার বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোসহ দুটি মামলা রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। রেনুর পরিবারের সদস্যরাও বর্তমানে থানা হেফাজতে আছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রেনু মিয়া আড়ালে চলে গিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি স্থানীয় বিএনপির এক নেতার সঙ্গে বিরোধ নিয়ে আলোচনায় আসেন। SHARES জাতীয় বিষয়: আওয়ামী লীগকিশোরগঞ্জকুলিয়ারচরগ্রেপ্তাররেনু মিয়া