ছুটির সকালে মিমির কাছে সাবেক স্বামীর ফোন ও স্মৃতির আলাপ

প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২৬

সারা সপ্তাহের কর্মব্যস্ততা শেষে শুক্রবারের সকালটা মিমির কাছে অমৃতের মতো। ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে নয় বছর ধরে কর্মরত মিমি সারা সপ্তাহ সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে ঘুম থেকে উঠে ৮টার মধ্যে ঘর থেকে বের হন, যাতে পৌনে ৯টায় অফিসে পৌঁছাতে পারেন। বনশ্রীর ছোট ফ্ল্যাটে একা থাকা মিমির কাছে এই নিজের ঘরটি যেন এক পরম পাওয়া। শহরের রাস্তায় চলতে গিয়ে গত মাসে বাসে ওঠার সময় এক ভদ্রলোকের বুট জুতার চাপে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলের নখ উল্টে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনার শিকারও হয়েছিলেন তিনি।

অলস ছুটির সকালে দুপুর ১২টার পর ঘুম থেকে ওঠার পরিকল্পনা ছিল মিমির, ঠিক তখনই বেজে উঠল ফোন—ওপাশে পলাশ। মিমির সাবেক স্বামী পলাশ, যার বয়স ৪০ পার হলেও মনটা এখনো শিশুদের মতোই মায়াবী, একরোখা ও ভাবুক। বিয়ের পর মিমি আবিষ্কার করেছিলেন পলাশ গাঁজার নেশায় আসক্ত, যা তাদের সম্পর্ক ভাঙার অন্যতম কারণ। যদিও তারা কোনো সন্তান নেয়নি, তবুও পলাশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও কর্মজীবনের ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত তাদের সংসার টিকতে দেয়নি। বিচ্ছেদের পর পলাশ ঢাকায় টিকতে না পেরে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন, যেখানে তিনি বাবার জমি দেখাশোনা করেন এবং নতুন এক কিশোরী মেয়ের সাথে প্রেমে মজে আছেন।

মিমি ফোনের ওপাশে পলাশের মায়ামাখা কণ্ঠস্বর শুনতে পান। পলাশ জানতে চায়, সে মিমির ঘুম ভাঙিয়ে দিল কি না। মিমি তার সাথে স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেন। পলাশ এখন গ্রামে প্রকৃতির মাঝে গাঁজা টানার স্বপ্ন পূরণ করছে দেখে মিমি মনে মনে হিংসে করলেও, পলাশের প্রতি তার মায়া রয়ে গেছে। তাদের ডিভোর্সের পর মিমি নিজে নতুন কোনো সম্পর্কে জড়াননি, যদিও পরিবার ও পরিচিতরা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। মিমি বরং এই স্বাধীন সঙ্গীহীন জীবনের প্রেমেই যেন মজে আছেন, মাঝে মাঝে যদিও একজন দায়িত্ববান সঙ্গীর কথা ভাবেন।

ফোনের আলাপচারিতায় পলাশ জানায়, সে মিমির সাহায্য চায় এবং জোর দিয়ে বলে যে তাদের প্রেম ভেঙে গেলেও বন্ধুত্ব ভাঙেনি। মিমির চোখে তখন জল, অথচ মুখে হাসি। তিনি পলাশকে বুঝতে দেন না যে তিনি কাঁদছেন। পলাশের খুশিতে ভরা কণ্ঠস্বর শুনে মিমি বিদায় জানান, আর পলাশ তার নিজের জগতে ফিরে যায়। গ্রাম ও প্রকৃতির মাঝে মগ্ন পলাশের জীবন নিয়ে মিমির মনে এক অদ্ভুত আবেশ তৈরি হয়।