১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু পেল হাম-রুবেলার টিকা, শুরু হচ্ছে নতুন ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত: ১:৪৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকারকে সবসময় তৎপর থাকতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বরের পর প্রতি চার বছরে একবার ব্যাপকভাবে এই মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব ছিল সরকারের। কিন্তু বিগত সরকারের উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। ইউনিসেফের নির্ধারিত সরাসরি কেনাকাটার পদ্ধতি বাদ দিয়ে দরপত্র আহ্বানের কারণে সময়ক্ষেপণ হয় এবং ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এই দীর্ঘ চার বছরের ঘাটতির কারণে অনেক মা সন্তান হারিয়েছেন। ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টের।

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে ইউনিসেফের অধীনে তিনটি ধাপে ১৮টি জেলায় এই কার্যক্রম চলে। পরবর্তীতে ঢাকা ও আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে এর আওতায় আনা হয়। এরপর ৪ মে দেশব্যাপী কর্মসূচি শুরুর কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকাদান চালু করা হয়।

হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে অপুষ্টি ও নিউমোনিয়াকে চিহ্নিত করেন চিকিৎসকেরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে শিশুরা দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে শ্বাসকষ্টে ভোগা অনেক শিশুকে অক্সিজেন সরবরাহ করে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এ সময় তিনি করোনাকালসহ বিভিন্ন মহামারিতে দেশের চিকিৎসকদের নিষ্ঠা ও ত্যাগের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হামের মতো ছোঁয়াচে রোগ দ্রুত ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি থাকে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশু অন্তর্ভুক্ত হলেও হাম-রুবেলার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৫ লাখ। এই ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধান দূর করতে সরকার নতুন উদ্যোগ নেয়। ক্যাম্পেইন শেষ হওয়ার পরদিন থেকে ঈদুল আজহার পরদিন পর্যন্ত অতিরিক্ত ১৪ লাখ শিশুকে খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় ইউনিসেফের দেওয়া নতুন ৪০ লাখ ডোজ টিকার মাধ্যমে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে 'ক্যাচআপ' কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নবজাতক এবং ২৪ লাখ আগে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।

আজ থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্প বসিয়ে এবং উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে জোরদারভাবে এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ছুটির দিনে এবং সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চালু থাকবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে আনা হবে। টিকাদান শেষেও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে এবং ইতোমধ্যে ৪৩ লাখ ডোজ বিভিন্ন উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। মপআপ কর্মসূচির জন্য বাকি টিকা সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচি সফল করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।