শ্রীমঙ্গলে ফল চাষে আতর আলীর সাফল্য, বছরে আয় ২৫ লাখ

প্রকাশিত: ৩:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ডলুছড়ার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আতর আলী মাল্টা চাষসহ বিভিন্ন জাতের ফল আবাদে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কৃষি পুরস্কারও পেয়েছেন। তার এই বৈচিত্র্যময় ফলের বাগান এখন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

২০২২ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২২০টি মাল্টার চারা দিয়ে আতর আলীর এই যাত্রার শুরু। নিজের বাড়ির আশপাশের প্রায় ৯০০ শতক সমতল ও পাহাড়ি টিলার জমিতে তিনি গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ফলের বাগান। সেখানে মাল্টার পাশাপাশি আনারস, ফিলিপাইনের আনারস, কফি, পেঁপে, সুপারি, লটকন, আতাফল, লেবু, কলা, জাম্বুরা ও নাগামরিচসহ শত শত গাছ রয়েছে।

আয়ের বিষয়ে আতর আলী জানান, বিভিন্ন ফল ও কৃষিপণ্য বিক্রি করে তার বার্ষিক আয় প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাল্টা চাষ থেকেই তিনি ভালো মুনাফা করছেন। ২০২২ সালে প্রথমবার মাল্টা বিক্রি করে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। এরপর ২০২৫ সালে ২২০টি গাছ থেকে আয় হয় প্রায় ২৫ হাজার টাকা এবং চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

আতর আলী জানান, কৃষি অফিসের দেওয়া চারার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে তিনি বাগানের পরিধি বাড়িয়েছেন। বাগানকে ফলনশীল করতে তিনি নিয়মিত সার প্রয়োগ, সেচ, পরিচর্যা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাহাড়ি ও সমতল ভূমির সমন্বয়ে মিশ্র চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করায় তিনি সারা বছরই কোনো না কোনো কৃষিপণ্য থেকে আয় করতে পারছেন।

তার এই বাগান দেখে স্থানীয় অনেক কৃষক এখন নতুন নতুন জাতের ফল চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন এবং আতর আলীর কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ নিচ্ছেন। আতর আলী মনে করেন, শ্রীমঙ্গলের মাটি ও আবহাওয়া ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পরিকল্পিত জমি ব্যবহার ও আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে কৃষকদের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়া এই বাগান এখন তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত