আগামী ছয় থেকে আট মাসে বড় কিছু ঘটতে পারে: রাহুল গান্ধী

প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বেশ চাপে ফেলবে এমন বড় কিছু ঘটতে পারে বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, রাহুল গান্ধী বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের গতি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী, নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। রাহুল দাবি করেন, বর্তমান সরকার আন্দোলনের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে, তাই এই সুযোগে আন্দোলনের চাপ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবে তার এই বক্তব্যের স্বপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ বা সরকারি প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

বৈঠক শেষে ইন্ডিয়া জোট দেশজুড়ে যৌথ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র রক্ষার পদযাত্রা’ পালন করা হবে। এছাড়া আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী দলীয় সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের অভিমুখে মিছিল করবেন।

ইভিএমে কারচুপির অভিযোগের উদাহরণ হিসেবে রাহুল গান্ধী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন এবং সেখানে কী ঘটেছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলো এখনও প্রমাণিত নয় এবং নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে রেখেছে। এ ছাড়াও রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে যা তিনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের কাছে থাকা তথ্যগুলোও পরস্পরের সঙ্গে আদান-প্রদান করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সব বিরোধী দল একমত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আন্দোলন জোরদার করার পক্ষে মত দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, এই লড়াই আরও বড় আকার নিচ্ছে এবং সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষার স্বার্থে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি। তবে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের নেতা ঘোষণা করা হয়নি, নেতৃত্বের বিষয়টি আলোচনার বাইরেই রাখা হয়েছে।