পার্বত্য এলাকার শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রমের আহ্বান

প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সরকারি দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে নিজের দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে আয়োজিত মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত আগস্ট ২০২৬ মাসের পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি উপস্থিত ছিলেন।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের এডিপিতে জিওবি ও প্রকল্প সাহায্যসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সভায়। এতে চলমান প্রকল্পগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিমন্ত্রী পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে কোনোভাবেই পিছিয়ে রাখা যাবে না এই অঞ্চলকে। শিক্ষার্থীদের ই-লার্নিং ও আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় এনে সমতলের শিক্ষার্থীদের সমতুল্য সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পাহাড়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ডাক্তার, প্রকৌশলী ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে। সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও স্কিমের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

পাহাড়ের নারীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহের বিড়ম্বনা থেকে নারীদের মুক্তি দিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। এছাড়া পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করে টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার ওপরও তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার একজন শিক্ষার্থীর মতো পাহাড়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও যেন যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি পাহাড় ও সমতলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য নিরসনে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা ও অতুল সরকার, উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ এবং বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ঢাকার কোনো শিক্ষার্থী কিংবা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার শিক্ষার্থী—যোগ্যতা থাকলে সবার সামনে সমান সুযোগ থাকবে।