ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠে দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিএনপি

প্রকাশিত: ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি। এ লক্ষ্যে জেলার আটটি উপজেলার সাংগঠনিক ইউনিটের জন্য ৪৮ সদস্যের পৃথক যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সবাই দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্তর্ভুক্ত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া এবং সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর জেলা বিএনপির জরুরি এক সাংগঠনিক সভায় তৃণমূল পর্যায়ে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলীয় চিঠিতে বলা হয়েছে, কমিটিগুলোর প্রধান দায়িত্ব হলো মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানো, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের জনমত ও সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রস্তুত করা। এ কাজে কমিটির নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিনিয়র নেতা, সাধারণ ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের সরাসরি মতামত গ্রহণ করবেন।

কমিটিগুলোকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির কাছে গোপনীয় প্রতিবেদন জমা দিতে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, বর্তমান ও অতীতের সাংগঠনিক পদবি এবং দায়িত্ব পালনের সময়কাল উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ওই ব্যক্তির ভূমিকা, মামলা-মোকদ্দমার বিবরণ, দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সক্ষমতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। কোথাও সাবেক চেয়ারম্যান, কোথাও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা, আবার কোথাও দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতারা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে যাঁরা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে আছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যাঁদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে, তাঁদের তথ্য মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসতে হবে।

শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রার্থী স্থানীয় জনগণের কাছে কতটা পরিচিত এবং সাংগঠনিকভাবে কতটা সক্রিয়, তা এই পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১৪০টি ইউনিয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় মামলা ও কারাবরণ করা ত্যাগী নেতাদের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে। জেলা বিএনপির লক্ষ্য হলো, কেন্দ্র থেকে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা। দক্ষিণের সব উপজেলার ১৪০ ইউনিয়নেও বিএনপি নেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও মামলা-কারাবরণের বিষয় সামনে থাকবে। ২৯ সেপ্টেম্বরের সাংগঠনিক সভায়ও প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখন মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে কারা মাঠে সক্রিয়, কারা তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য এবং শেষ পর্যন্ত কারা দলীয় সমর্থনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ই যথেষ্ট নয়; একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর সাংগঠনিক অবস্থান, অতীত ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক—সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। মাঠ থেকে আসা এই তালিকাটিই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয় বাস্তবতাকে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তৃণমূলের মতামত যাতে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এই প্রাথমিক তালিকাটিই চূড়ান্ত প্রার্থী নয়। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর জেলা পর্যায়ে তা সমন্বয় করে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

২০২৫ সালে ঘোষিত ৫৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমেই বর্তমানে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ১০ দিনের মাঠপর্যায়ের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় নেতারা।