চুয়েট উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ৭:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের গণমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটায় শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা নবনিযুক্ত উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে উপাচার্য দাবি করেছিলেন যে, আন্দোলনের কারণে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের চারটি পরীক্ষা আটকে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই শিক্ষাবর্ষের প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং মাত্র একটি বিভাগের পরীক্ষা শুরু হওয়া বাকি। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এই বক্তব্য ক্যাম্পাসের বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ‘এক দফা, এক দাবি—সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ এবং ‘তোমার ভিসি, আমার ভিসি—সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত করে তোলেন। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’ এবং ‘পিএম, কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’-এর মতো দাবিগুলো ফুটে ওঠে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিরসন এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান।

ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, প্রশাসনের নীরবতার কারণে আমরা ক্ষুব্ধ। আমাদের সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছি। শিক্ষার্থীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে দ্রুত এই সংকটের সমাধান হয়। আন্দোলনের কারণে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যেন দ্রুত আমাদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এর আগে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে লাল কার্ড প্রদর্শন ও মশাল মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ছয়টি বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত ক্লাসে ফেরা সম্ভব হয়।