মাত্র ৬ সদস্য নিয়ে চুয়েটের সিন্ডিকেট সভা করলেন উপাচার্য প্রকাশিত: ২:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০২৬ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই অনলাইনে সিন্ডিকেট সভার আয়োজন করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে এই ভার্চুয়াল সভায় মাত্র ছয়জন সদস্য অংশ নেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিজ বাসভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ছাড়েন উপাচার্য। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে সার্কিট হাউসে ফিরে তিনি সভার উদ্যোগ নেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনে এই সভা থেকে তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারী এক সদস্য। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়। সভায় মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় সচল করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিদ্যমান যোগাযোগের দূরত্ব কমানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অংশ নেওয়া এক সিন্ডিকেট সদস্য জানিয়েছেন, কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি থাকলে তা নিরসনের বিষয়ে সদস্যরা মতামত দিয়েছেন। তবে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত উপাচার্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। এছাড়া, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান জানান, সভায় উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের কোনো শিক্ষক সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি। চুয়েট সিন্ডিকেটের মোট সদস্য সংখ্যা ১৭ জন হলেও, এবার অধিকাংশের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, ছুটি, পারিবারিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনেকে এই সভায় যোগ দিতে পারেননি। এ সময় রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করেন যে, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছেন বিধায় এখন আর সিন্ডিকেটের সচিব হিসেবে দায়িত্বে নেই। প্রসঙ্গত, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। এর ফলে ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। যদিও সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি নিয়ে আলাপ হয়েছে, তবে কবে নাগাদ পুনরায় নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। উপাচার্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: উপাচার্যচট্টগ্রামচুয়েটশিক্ষার্থী আন্দোলনসিন্ডিকেট সভা