বঙ্গোপসাগরের তথ্য সংগ্রহে চীনের বয় পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের পরিবেশ, সামুদ্রিক অবস্থা ও আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। এই লক্ষ্য অর্জনে চীনের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (এসআইও) বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ বয় প্রদান করেছে। বয়টি সমুদ্রের কোথায় স্থাপন করা হবে, এর পরিচালনা পদ্ধতি এবং সংগৃহীত উপাত্ত নিয়ে গবেষণার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে চীনে চবির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সাম্প্রতিক সফরে।

গত ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের নেতৃত্বে চীনের সফর করেন প্রতিনিধিদলটি। দলে ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম, স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন এবং উপাচার্য দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ রিয়াজুল হারুন।

সফরের প্রথম দিন ১৫ অক্টোবর চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইও পরিদর্শন করেন প্রতিনিধিরা। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির প্রয়োগ, সমুদ্রের পূর্বাভাস প্রদান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং সফটওয়্যার উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। একই দিন প্রতিনিধিদলটি এসআইওর লিনআন বেসে অবস্থিত স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গত ৯ জুন এসআইওর প্রযুক্তিগত সহায়তায় চবি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনটি উদ্বোধন করা হয়েছিল।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৬ অক্টোবর চবির প্রতিনিধিরা ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্সেস স্কুল, বিগ ডাটা সেন্টার এবং আর্থ সায়েন্স মিউজিয়াম ঘুরে দেখেন। এ সময় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, আন্তর্জাতিক গবেষণা তহবিল সংগ্রহ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এ ছাড়া জাদুঘর ও বিজ্ঞানকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা শেয়ারের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

চীনা গবেষকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সমুদ্র গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের নানা সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন চবির প্রতিনিধিরা। এ সময় এসআইওর জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী ও গবেষকদের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ বয় স্থাপনের কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত বৈঠক করেন তাঁরা। বয়টি কার্যকর হলে সামুদ্রিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, নিখুঁত পূর্বাভাস প্রদান এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঁচ দিনের সফর শেষে ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় হাংঝু থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এবং ১৮ অক্টোবর সকালে তাঁরা দেশে ফিরে আসেন।