সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন প্রস্তাব প্রকাশিত: ৮:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২৬ প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০২ পিএম। সংসদের উচ্চকক্ষ গঠনের লক্ষ্যে একটি নতুন প্রস্তাব উঠেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে। প্রস্তাব অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের অর্ধেক সদস্য সংসদীয় আসনের অনুপাতে এবং বাকি অর্ধেক রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাড়ে ছয় ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি অনুযায়ী, উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১০৫ জন হতে পারে। এর মধ্যে ৫০ জন সংসদীয় আসনের অনুপাতে, ৫০ জন প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে এবং বাকি পাঁচজন রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত হবেন। প্রস্তাবদাতার মতে, এই কাঠামোটি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে। এই প্রস্তাবের প্রতি বৈঠকে উপস্থিত অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া এক শিক্ষাবিদ উচ্চকক্ষের স্পিকারের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংবিধানে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টি করা যেতে পারে, যেখানে উচ্চকক্ষের স্পিকার পদাধিকারবলে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মনোনয়নের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ থেকে উপদেষ্টাদের নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই শিক্ষাবিদ নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও একটি নির্বাচিত সংসদ বহাল থাকে। কমিটির সভায় আমন্ত্রিত সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা অংশ নেন। আমন্ত্রণ জানানো ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, স্পিকারের নেতৃত্বে সরকার গঠন এবং অন্যান্য উপদেষ্টাদের সরকারি ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। কমিটির সভাপতি জানান, সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। তবে শনিবারের বৈঠকটি এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ছিল। কমিটির আরও এক বা দুটি বৈঠক বাকি রয়েছে এবং ইতিমধ্যে প্রস্তাবগুলো সংকলনের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। বৈঠকে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিচারিক পর্যালোচনা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মোটামুটি ঐকমত্য হয়েছে যে, সংসদ সদস্যরা আস্থা ভোট, অর্থবিল ও জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। SHARES জাতীয় বিষয়: তত্ত্বাবধায়ক সরকাররাজনীতিসংবিধানসংসদসালাহউদ্দিন আহমদ