সাত মাসে দেশে ৩৪১ নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০২৬ দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্র আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের গত সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতারা এ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশের ১৪টি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এই পরিসংখ্যান সংকলন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও পারিবারিক কলহসহ নানা কারণ রয়েছে। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য হাতে পাওয়া গেলে সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৯১ জন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয় এবং এই সহিংসতার প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না। মানববন্ধন থেকে নারী ও শিশুর প্রতি প্রতিটি সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতারা অঙ্গীকার করেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা ও মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য যে, নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা ও হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় একই সময়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। SHARES জাতীয় বিষয়: কন্যাশিশু হত্যানারী নির্যাতনবাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহিংসতা