আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশিত: ৯:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি এবং মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কৃষি গবেষণার সাফল্য হিসেবে ১ হাজার ৯০টি জাত ও এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো যন্ত্র কৃষকদের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে সেচ ব্যয় কমানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে এই কার্ড প্রদানের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নজর দিতে বলেছেন।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।