তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি পুনর্বহালে অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের বহিষ্কার কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার অনুমতি প্রদান করেছে। মঙ্গলবারের এই আদেশের ফলে মার্কিন সরকার এখন থেকে বহিষ্কারের পূর্বে অভিবাসীদের সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে বক্তব্য জানানোর সুযোগ না দিয়েই তাদের অন্য দেশে পাঠাতে পারবে। বিচার বিভাগের জরুরি আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বোস্টনের ফেডারেল জেলা জজ ব্রায়ান মারফির দেওয়া পূর্বের রায়টি স্থগিত করেছে। জজ মারফি এর আগে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপরই নীতিটির বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল বিচারপতিদের ৬-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। মঙ্গলবারের আদেশে তিন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করলেও, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় দেশে বহিষ্কার কার্যক্রম চালুর অনুমতি বহাল রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই নীতি চালুর পর থেকে প্রায় ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে বহিষ্কার করা হয়েছে, যার বেশিরভাগকেই মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মসূচির আওতায় দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, লাইবেরিয়া ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতেও অভিবাসীদের পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সুদানকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অপরাধ, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকির কারণে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের জেনারেল কাউন্সেল জেমস পার্সিভাল একে অপরাধী অভিবাসী ও ‘ওপেন-বর্ডার’পন্থীদের জন্য একটি খারাপ দিন হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, মামলাকারীদের আইনজীবী ত্রিনা রিয়েলমুটো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে মানুষকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে যেখানে তারা নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, কাউকে বিমানে তুলে দেওয়ার আগে তাদের নোটিশ বা আশঙ্কার কথা জানানোর সুযোগ নাও দেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য যে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জজ মারফি তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন, তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন এবং সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার (ডিউ প্রসেস) সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: অভিবাসনট্রাম্প প্রশাসনবহিষ্কার নীতিযুক্তরাষ্ট্রসুপ্রিম কোর্ট