দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে বিপদে পড়বে সরকার প্রকাশিত: ১:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬ রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, এসব ঘটনা মোটেও বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়, বরং সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি বড় অশনিসংকেত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নিলে দেশের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করেছে, রাড্ডা এমসিএইচের মতো একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান, যা অর্ধশত বছর ধরে গরিব ও অসহায় মা-শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে, সেটি ধ্বংস করা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে এই প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত করা হলো, তা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে চোরতন্ত্রের পতনের পর জনরায়ে ক্ষমতায় আসা দলের নেতা-কর্মীদের এমন কর্মকাণ্ড দেশবাসীকে হতাশ করছে। বিগত সময়ের কর্তৃত্ববাদী সরকারের স্বেচ্ছাচারী আচরণের স্মৃতি এখনো মানুষের মনে সতেজ, তাই বিএনপির নীতিনির্ধারকদের এখনই দলীয় নেতা-কর্মীদের দখলবাজি ও চাঁদাবাজির পরিণতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা প্রয়োজন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে বিএনপির একাংশের বিরুদ্ধে বাস টার্মিনাল, বাজার, ফুটপাত, জলমহাল ও বালুমহাল দখলের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কেব্ল ও ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল ও স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্রিয়েটিভ স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে এসব অরাজকতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে টিআইবি। টিআইবি আরও জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কিছু বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হলেও কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার কারণে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না, যা দেশে পুনরায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। SHARES জাতীয় বিষয়: চাঁদাবাজিটিআইবিদখলবাজিমিরপুররাজনীতি