লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন কিশোর নাভহান

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের মঞ্চে আয়োজিত সংগীত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান উজায়ের রঈস চৌধুরী। বুধবার অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার মেকার্স ২০২৬’ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে নিজের রচিত ধ্রুপদি সংগীত পরিবেশন করে সে বিচারকদের মুগ্ধ করে। প্রায় পাঁচ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় ১৪ থেকে ১৯ বছর বয়সী হাজারো আবেদনকারীর মধ্য থেকে নাভহানকে সেরা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

প্রতিযোগিতায় নাভহান তার নিজের লেখা পিয়ানো কম্পোজিশন ‘লা দ্যুল্যর এক্সকিজ’ পরিবেশন করে। ফরাসি এই শব্দগুচ্ছের অর্থ ‘তীব্র বেদনা’। এফ-শার্প মাইনর স্কেলে রচিত এই সংগীতের বিষয়বস্তু ছিল যুদ্ধ ও ভালোবাসা। পিয়ানোয় সুরের মাধ্যমে সে ঘৃণা ও সংঘাতের বিপরীতে ভালোবাসার জয়কে তুলে ধরে। ধ্রুপদি সংগীতের রোমান্টিক যুগের সুরকার ফ্রেদেরিক শোপাঁ, সের্গেই রাখমানিনভ ও ফ্রানৎস লিস্টের কাজের প্রতি নাভহানের বিশেষ অনুরাগ রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রতিযোগিতার বিজ্ঞাপন দেখে নাভহান এতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রাথমিক বাছাই ও জুনে অনুষ্ঠিত সরাসরি অডিশনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২৫ জন থেকে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়া নয়জনের একজন ছিল সে। এই অর্জনের ফলে নাভহান আগামী এক বছর সংগীত প্রযোজনা, রেকর্ডিং ও পেশাগত সংগীতজীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সহায়তা পাবে।

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া নাভহান বর্তমানে হ্যারো স্কুলের শিক্ষার্থী। ১৩ বছর বয়সে সংগীতবৃত্তি পেয়ে সে এই ঐতিহ্যবাহী আবাসিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়। সেখানে সে পিয়ানো ও চেলো বাদ্যযন্ত্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এর আগে সে লন্ডনের গিল্ডহল স্কুল অব মিউজিক অ্যান্ড ড্রামার জুনিয়র বিভাগে প্রশিক্ষণ নিয়েছে এবং মাত্র ১৩ বছর বয়সে ড্রেপার্স হলে নিজের রচিত সংগীত পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

নাভহানের বাবা মোহাম্মদ চৌধুরী (ভুলন চৌধুরী) ১৯৯৪ সাল থেকে এবং মা রুবেনা চৌধুরী ১৯৭৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। রুবেনা চৌধুরী নিজেও একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন, যিনি ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। নাভহানের এই সাফল্যের পেছনে তার পারিবারিক সংগীত ঐতিহ্য ও বড় বোনের অনুপ্রেরণা কাজ করেছে। তার বাবা ও পরিবারের সঙ্গে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী মাহমুদুন্নবী এবং গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরীর পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে খ্যাতনামা গীতিকার কাওসার আহমেদ চৌধুরীও ছিলেন তার বাবার ফুফা। ভবিষ্যতের সংগীতশিল্পীর খোঁজে রয়্যাল অ্যালবার্ট হলের ফিউচার মেকার্স প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২০২২ সালে।