দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স ও স্পেন, তিন লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে

প্রকাশিত: 11:31 AM, July 28, 2026

ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে, যা পুরো পশ্চিম ইউরোপজুড়ে বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করেছে। দাবানল এখন দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বর্দো শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের মেয়রকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এই সংকটকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সের সবচেয়ে কঠিন ও অভূতপূর্ব পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে তিন লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার এবং স্পেনে ১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গ্যারন ও জিরোন্দ অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি সেবা কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, অনিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহের কারণে দাবানল নিজেই তার গতিপথ পরিবর্তন করছে এবং অনিশ্চিতভাবে বর্দো মহানগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। চলতি বছর ফ্রান্সে ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

স্পেনের পরিস্থিতিও অত্যন্ত নাজুক। দেশটির রাজধানী মাদ্রিদের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত আভিলা এলাকার দাবানলটি স্পেনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে একাই ৫০ হাজার হেক্টর জমি ভস্মীভূত হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে চলতি বছর দেশটিতে ১ লাখ ৭২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইতালি ও পর্তুগালেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে; ইতালির পুগলিয়া এবং বাসিলিকাটা অঞ্চল থেকে পর্যটক ও বাসিন্দাদের সমুদ্রপথে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দাবানল নিয়ন্ত্রণে যৌথ উদ্ধার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, গ্রিস ও ইতালি থেকে অগ্নিনির্বাপক বিমান, হেলিকপ্টার ও বিশেষ ফায়ারফোর্সের টিম ফ্রান্স ও স্পেনে পাঠানো হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা মঙ্গলবার ও বুধবার তাপমাত্রা পুনরায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে (১০৪ ফারেনহাইট) পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই তীব্র তাপদাহ ও দাবানলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইউরোপীয় কমিশন সতর্ক করেছে যে এই দাবানলের মৌসুম আগামী নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখা, এফএফপি২ মাস্ক ব্যবহার করা এবং ভারী পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।