আসামে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫

প্রকাশিত: 3:32 PM, August 6, 2026

ভারতের আসামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি মৌসুমে বন্যাজনিত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ প্রতিবেদন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (ডিআরআইএমএস)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার নতুন করে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন গ্রামীণ বন্যার কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে বিশ্বনাথ জেলায় দুজন, শিবসাগরে দুজন এবং গোলাঘাটে একজন মারা গেছেন। এছাড়া মরিগাঁও জেলার মায়ং রাজস্ব চক্র এলাকায় নগর বন্যায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে উদালগুড়ি জেলায় একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নুমালীগড়ে ধানসিরি (দক্ষিণ) নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গোলাঘাট, লাখিমপুর, চরাইদেও, শিবসাগর, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, কামরূপ (মেট্রো), জোরহাট, সোনিতপুর, তিনসুকিয়া, নগাঁও, দাররাং, কারবি আংলং এবং উদালগুড়িসহ মোট ১৪ জেলা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

বর্তমান বন্যায় ৫৬৩টি গ্রামের ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায় ৫৭ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। এছাড়া বন্যায় রাজ্যের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশ্বনাথ জেলার ব্রহ্মাজানে পাঁচটি এবং দাররাং জেলার মঙ্গলদৈয়ে দুটি বড় বাঁধ ভেঙে গেছে। চরাইদেও জেলার চোলাপাথারে একটি স্টিলের সেতু এবং উদালগুড়ির তাংলায় একটি ফুটব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫১ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে এবং ৩৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৫০০টি পশু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

গুয়াহাটি শহরসহ কয়েকটি নগর এলাকাও তীব্র জলাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), মরিগাঁও এবং জোরহাট জেলায় নগর বন্যায় অন্তত ৭৩৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা নৌকা ব্যবহার করে সাতগাঁও ও হাতিগাঁওসহ বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা থেকে অন্তত ৮০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় আসাম সরকার ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। বর্তমানে ৪৫টি ত্রাণশিবিরে ১২ হাজার ৩৫৬ জন আশ্রয় নিয়েছেন এবং ৫৯টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ উজানের জলাধার এলাকায় আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় নদীর পানি আরও বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।