বাংলা কিউআর: ডিজিটাল লেনদেনে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি প্রকাশিত: 10:00 AM, July 18, 2026 বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলা কিউআর’ উদ্যোগটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কিউআর কোড থাকার ফলে গ্রাহকদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সীমাবদ্ধতায় ভুগতে হতো। এখন একক ও সর্বজনীন বাংলা কিউআর চালুর মাধ্যমে যেকোনো অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় একটি বড় অগ্রগতি। উদ্যোগটির ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা গেলেও এর পরিসর এখনো বেশ সীমিত। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক হওয়ার পর প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা। অথচ ব্যাংক ও এমএফএসগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন মোট ৩৪০ কোটি টাকার ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই ব্যবধান প্রমাণ করে যে, কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্যই যথেষ্ট নয়; বরং এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জের পেছনে বেশ কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতির বড় অংশীদার হলেও, খুচরা পর্যায়ে বাংলা কিউআরের ব্যবহার এখনো আশানুরূপ নয়। এর একটি প্রধান কারণ হলো রিটেইল হিসাব খোলার জটিল প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা। এছাড়া লেনদেনের ওপর ১ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল আরোপ করায় অনেক ছোট ব্যবসায়ী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কারণ আগের ব্যবস্থায় তাদের কোনো খরচ দিতে হতো না। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। একজন বিক্রেতাকে বাংলা কিউআরের আওতায় আনতে প্রায় ৫০০ টাকা ব্যয় করতে হয়, অথচ এর বিপরীতে পর্যাপ্ত প্রণোদনা না থাকায় ব্যাংক ও এমএফএসগুলো সম্প্রসারণে ধীরগতি দেখাচ্ছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং গ্রাহকদের মোবাইল অ্যাপ হালনাগাদ না থাকার মতো বিষয়গুলোও প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ডিজিটাল অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে বাংলা কিউআর একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে এর পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক ফি নির্ধারণ কিংবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাশুল মওকুফের মতো প্রণোদনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। SHARES মতামত বিষয়: ডিজিটাল অর্থনীতিডিজিটাল পেমেন্টবাংলা কিউআরবাংলাদেশ-ব্যাংকলেনদেন