অনশনের ২১তম দিনে হাসপাতালে ভর্তি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক

প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে টানা ২১ দিন ধরে অনশনরত প্রখ্যাত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে শনিবার (১৮ জুলাই) পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যুব সংগঠন 'ককরোচ জনতা পার্টি'র (সিজেপি) সমর্থনে এই আন্দোলন শুরু করেছিলেন।

সোনম ওয়াংচুকের এই দীর্ঘ অনশন ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত গত মে মাসে মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার (নিট-ইউজি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়ার প্রতিবাদে সিজেপি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনেই জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি হাই কোর্ট এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখার এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছিল। মূলত ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য দুর্বল হয়ে পড়ায় তাকে জোরপূর্বক খাওয়ানোর অনুরোধ জানিয়ে ওই আবেদন করা হয়েছিল।

প্রতিবাদস্থলের একটি মঞ্চে ম্যাট্রেসের ওপর শুয়েই ওয়াংচুক এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যেখানে তার সমর্থক ও দর্শনার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এর আগে অনশনের তৃতীয় দিনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তার এই অনশন ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে যদি না এর আগেই তার মৃত্যু হয়। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, একটি সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কষ্ট বুঝবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে আগামী ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছে সিজেপি। ওই দিন থেকেই পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর লাদাখে এক সহিংস আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে নরেন্দ্র মোদীর সরকার ওয়াংচুককে অভিযুক্ত করেছিল। প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি মুক্তি পান। তবে সরকার তোলা সব অভিযোগ অস্বীকার করে ওয়াংচুক বলেছিলেন, ওই সহিংসতা ছিল মূলত স্থানীয় মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।