জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের অভিযান

প্রকাশিত: ৪:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০২৬

বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে সংস্থাটির একটি দল ওই আটতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়িটিতে ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। অভিযান শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এর আগে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি আদালত সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিভিন্ন জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে 'রিসিভার' হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বর্তমানে কারাগারে রাখা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক এবং তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জিয়াউল আহসান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়াউল আহসান ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অনুমোদিত সীমার চেয়ে বেশি ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, স্ত্রী নুসরাত জাহানের সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জিয়াউল আহসানের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।