পাঁচ মাসের সংঘাতেও যেভাবে স্থিতিশীল ছিল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার

প্রকাশিত: ২:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ হওয়া প্রায় ২০ শতাংশ তেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা উঠে এলেও বাস্তবে তা ঘটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠলেও ২০০৮ সালের ১৪৭ ডলারের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারেনি।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১১ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা স্থগিতের ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার। জুলাইয়ের শুরুতে দাম আবার কমে যুদ্ধ-পূর্ব ৭০ ডলারের কাছাকাছি চলে আসে। এই সময়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ তেল আমদানিকারক দেশ চীন জ্বালানি বাজারে বড় চমক দেখায়; জুন মাসে দেশটির অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন, রপ্তানি হ্রাস, বৈদ্যুতিক ট্যাক্সির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে উৎপাদন কমে যাওয়ায় তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশ যুক্তরাষ্ট্র বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এপ্রিল মাসে দেশটির দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত তেল মজুত (স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ে, যা সরবরাহ সংকট সামাল দিতে সহায়তা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি চুক্তি ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় তেল পরিবহন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী মন্তব্যও দামের ঊর্ধ্বগতি সীমিত রাখতে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের ইলিয়া বুচুয়েভ জানান, অনেকেই তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করলেও বাস্তবে বড় আকারে কেউ সেই অবস্থান নেননি। হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তার মধ্যে সৌদি আরব লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়, যা হরমুজ প্রণালির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে দেয়। জুনে অল্প সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন শুরু হলেও জুলাইয়ে নতুন করে সংঘাতের কারণে তা আবারও কমে যায়। জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, তাই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও তেলের দামে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।