সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা প্রকাশিত: ৯:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০২৬ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার রসুলপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসানের পদত্যাগের দাবিতে বিদ্যালয়ে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। রোববার সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রে ব্যাপক ভুল ছিল। এ ছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র হুবহু অনুসরণ এবং সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন করার অভিযোগও করেছেন তারা। এসব বিষয় নিয়ে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসান নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকেন না, বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর অনিয়মিত উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলেছে। এছাড়াও পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করেই নম্বর দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী উত্তরপত্রে ৫০ নম্বরের উত্তর লিখলেও খাতা না দেখেই তাদের ৮০ নম্বর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয়ের ফ্যান, লাইট ও টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি বিদ্যালয়ের বারান্দায় মাদক সেবনসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একজন অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত অনুপস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের সুনাম ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক রাশিদুল হাসান বলেন, হাজিরা খাতা দেখলেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে। তিনি দাবি করেন, প্রশ্নপত্রে ছাপার ভুল (প্রিন্ট মিসটেক) হয়েছে এবং অফিশিয়াল কাজের ব্যস্ততার কারণেও তাঁকে অনেক সময় ক্লাসের বাইরে থাকতে হয়। এছাড়া টিফিনের পর শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাসিবুল আলম মির্জা জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি শোনার পর বিদ্যালয়ে এসেছেন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ শ্রেণিকক্ষে তালা দেওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। SHARES জাতীয় বিষয়: কামারখন্দপ্রধান শিক্ষকরসুলপুর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসিরাজগঞ্জ