নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়ার অভিযোগ মামদানির ওপর প্রকাশিত: ১০:০০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২৬ নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির ওপর তীব্র ক্ষোভ ও বিষোদগার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই শরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আসার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। এই সফরকালে তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মামদানি তার বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন মেয়র হিসেবে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের অভিভাবক হওয়ার কথা থাকলেও মামদানি এক সম্প্রদায়কে অন্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে মামদানি তার আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিউ ইয়র্ক সিটি স্বাগত জানায় না। নেতানিয়াহু অবশ্য মামদানির এই অবস্থানের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন নন। তিনি দাবি করেন, নিউ ইয়র্কের ইহুদিরা বর্তমানে ভীত অবস্থায় আছেন। এ সময় নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে গত বৃহস্পতিবারের দুটি পৃথক ছুরিকাঘাতের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যেখানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিল। ওই ঘটনায় আহত দুই ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুই ব্যক্তি হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। ঘটনাটি নিউ ইয়র্কের ইহুদি ও এশীয়-আমেরিকান নেতাদের তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও মেয়রের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জোরালো সমর্থক জোহরান মামদানি গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরোধিতাকে অন্যতম প্রধান ইস্যু করেছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তিনি তা কার্যকর করবেন। ওই পরোয়ানায় গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়। ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। এর জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২১ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সংস্থাটির প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে তারা নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: আইসিসিইসরায়েলজোহরান মামদানিনিউ ইয়র্কনেতানিয়াহু