১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৬, ২০২৬

পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর, সরকার আগামী ১৬ আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পর্যায়ক্রমে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসা। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করার মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেই এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে এর কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।

মন্ত্রী আরও জানান, ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৪টি এলাকায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি এবং ত্রুটির হার ছিল ৩ শতাংশের নিচে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। মৃত্যুর তথ্য, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য যেকোনো তথ্য দ্রুত নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতি মাসে ডাটা হালনাগাদ করা হবে। এই কর্মসূচিতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে কমিটি কাজ করবে। জাতীয় পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি তদারকি কমিটি থাকবে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত এর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল বা ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে তাদের কার্ডের মর্যাদাও পরিবর্তিত হবে। এছাড়া, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করা হবে। পরিবারের নারী সদস্যদের মাধ্যমে সহায়তা প্রদানের ফলে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং নারীর ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে সরকার।