ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের পথ খুঁজছেন মার্কিন শীর্ষ জেনারেল

প্রকাশিত: ১:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৬

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্যক্তিগত আলোচনায় ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটি পথ যুক্তরাষ্ট্রকে খুঁজে বের করতে হবে। সিএনএনের তিনটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কেইন মনে করেন সংঘাত আরও বাড়াতে বর্তমানে যে সামরিক বিকল্পগুলো রয়েছে, সেগুলো উল্টো ফল দিতে পারে। কেবল বিমানশক্তি ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জেনারেল কেইন তার এই উদ্বেগের কথা সিআইএ পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টার সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন, যার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা এবং প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের আগে সবাইকে একই অবস্থানে নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন সেনা স্থলভাগে না নামিয়েও যেসব সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ধারণার ব্যাপারে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং বিমান হামলার মাধ্যমেই ইরানকে চুক্তিতে রাজি করানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কেইন ও প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এমন ফল অর্জনের সম্ভাবনা কম। প্রায় ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের শুরুতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংসের দাবি করা হলেও, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য এখনো অধরা।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কেইনের মুখপাত্র জোসেফ হলস্টেড জানান, চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বা অন্য শীর্ষ নেতাদের গোপন আলোচনার বিষয়ে তারা কথা বলেন না। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা কেইনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তিনি প্রেসিডেন্টকে নির্ভুল ও পক্ষপাতহীন তথ্য দেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সিআইএ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

কেইন গত মাসের শেষ দিকে আইনপ্রণেতাদের সামনে স্বীকার করেছিলেন যে বিমানশক্তির সীমাবদ্ধতা আছে। জুলাইয়ের শেষ দিকে সংঘাত বাড়াতে নতুন করে ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কেইন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সতর্ক ছিলেন। একটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে একটি “ব্যাপক” অভিযানের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের কাছ থেকে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কার কথা শোনার পর তিনি পিছিয়ে আসেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ভয় ছিল মিত্রদের।

যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়াও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে। কেইন ও উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্ক করেছে যে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে ইরানের পাল্টা হামলা ঠেকাতে সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালালে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ বাড়ার বদলে উল্টো শাসকগোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প ইরানের সেতুতে বোমা হামলার কথাও বিবেচনা করেছিলেন, তবে দ্বিতীয় একটি সূত্রের মতে, এতেও কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে কেইন সতর্কতার সঙ্গে সামরিক বিকল্পগুলোর নেতিবাচক দিক তুলে ধরছেন। তিনি হোয়াইট হাউসে নিয়মিত ব্রিফ করার জন্য একটি অফিস পাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। গত মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসের এক বৈঠকে কেইন গোলাবারুদের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, ট্রাম্প যদি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তবে “আমরা অবশ্যই তাদের ব্যাপকভাবে ধ্বংস করতে পারব” বলেও নিশ্চিত করেছেন। তবে ব্যক্তিগত আলোচনায় তিনি বিমানবাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

কেইনের ভূমিকা নিয়ে কিছু সমালোচনাও রয়েছে, বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা নিয়ে। তবে তিনি এখন এমন একটি ‘বেরিয়ে আসার পথ’ খুঁজছেন, যা প্রেসিডেন্টকে একটি ‘প্রতীকী বিজয়’ তুলে ধরার সুযোগ দেবে, যাতে কূটনৈতিক সমঝোতার পথও বন্ধ না হয়। এর শুরু হতে পারে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তির মাধ্যমে।