যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকা

প্রকাশিত: ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এবং সিনেটেও তারা এগিয়ে আছে।

নির্বাচনী পরিস্থিতির পাশাপাশি ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রেক্ষাপটও আলোচনায় রয়েছে। ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন নিউইয়র্কের কুইন্সে জন্ম নেওয়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি শপথ নেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর সব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প ছিলেন নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী এবং মা মেরি ট্রাম্প স্কটিশ বংশোদ্ভূত মার্কিন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে ট্রাম্প চতুর্থ। ছোটবেলায় চঞ্চল স্বভাবের কারণে তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি অ্যাকাডেমি স্কুলে দেওয়া হয়। ১৯৬৮ সালে তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক করেন। পরে বাবার ব্যবসায় যোগ দিয়ে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনোর মতো ব্যবসা গড়ে তোলেন। তিনি মিস ইউনিভার্সের স্পনসর ছিলেন এবং 'দ্য অ্যাপ্রেনটিস' টিভি রিয়্যালিটি শো উপস্থাপনা করে সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন।

ট্রাম্প তিনবার বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানা (বিচ্ছেদ ১৯৯২), দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলস (বিচ্ছেদ ১৯৯৯) এবং তৃতীয় স্ত্রী মডেল মেলানিয়া ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির সদস্য হিসেবে প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারের সময় রাশিয়া ও ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি অনুরাগের কথা জানিয়ে বিতর্কে জড়ান। অভিবাসী, নারী, মুসলমান ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সমালোচিত হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে মুসলিম নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন নির্বাহী আদেশ জারি, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত বিরোধের কারণে তিনি সব সময় আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছেন। তাঁর প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা প্রথম বছরেই বিদায় নিয়েছেন এবং ট্রাম্পের মানসিক সুস্থতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এত সমালোচনা সত্ত্বেও তিনি দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন করার ইচ্ছার কথা আগেই জানিয়ে রেখেছেন।

prothomalo-bangla/2026-03-22/7y61su0m/us-house.webp

prothomalo-bangla/2026-11-04/w7zgtgqn/us-result.jpg