২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট সরাসরি সম্প্রচার করবে ইসি

প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২৬

আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসি সচিব জানান, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় ভোটগ্রহণের সময়, স্থান, পদ্ধতি এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। নির্বাচন কমিশনের ২০ জন সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ব্যালট পেপার সরবরাহের দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তুলে ধরে সচিব বলেন, সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পর সেখানে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনো একটিতে তা জমা দিতে পারবেন। মোট ৩৪৯টি ব্যালট পেপার থাকবে। বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই অধিবেশন কক্ষেই ব্যালট গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সেখানেই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে ইসি সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

সাংবাদিকদের জন্য ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি নির্ধারিত আসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ব্যালট পেপারের কাঠামো সম্পর্কে তিনি জানান, এতে দুটি অংশ থাকবে। একটি অংশে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে এবং অন্য অংশে প্রার্থীদের নাম থাকবে। ভোটারকে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসি কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা থাকবে এবং নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, এটি নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক প্রশ্ন। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আবারও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।