ডারউইন টেস্টের প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার ৪ উইকেট তুলে নিল বাংলাদেশ প্রকাশিত: ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২৬ দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম সেশনেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল বাংলাদেশ দল। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসযুক্ত উইকেটে অসাধারণ বোলিং করেছেন বাংলাদেশের তিন পেসার হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। প্রথম সেশনেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে লাঞ্চের বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতি পর্যন্ত ২২ ওভার বল করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ম্যাচের শুরুতে ট্রাভিস হেড ও জেক ওয়েদারাল্ডের উদ্বোধনী জুটি ৪৫ রান যোগ করে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন হাসান মাহমুদ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২৩ রানে বিদায় নেন ওয়েদারাল্ড। ফক্স ক্রিকেটের ধারাভাষ্যকার কেরি ও’কিফ এই উইকেটের পর মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের উইকেটটি প্রাপ্য ছিল।’ এরপর নিজের পরের ওভারে বোলিংে এসে আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকেও সাজঘরে ফেরান হাসান মাহমুদ। রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা হাসানের একটি ইনসুইঙ্গিং ডেলিভারি হেডের ব্যাটে লেগে স্টাম্পের বেলস উড়িয়ে দেয়। ২২ রান করে বিদায় নেন হেড। এরপর দলীয় ৬৪ রানে মারনাস লাবুশেনকে ফেরান ইবাদত হোসেন। অফ স্টাম্পের বাইরে ইবাদতের করা বলটিতে অনর্থক খোঁচা মারতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন মাত্র ১ রান করা লাবুশেন। ইবাদত তাঁর ট্রেডমার্ক স্যালুট দিয়ে এই উইকেট উদ্যাপন করেন। ধারাভাষ্যকার ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ এই আউটের পর বলেন, ‘নাথিং শট…বাংলাদেশ আর অন টপ হেয়ার!’ লাঞ্চের ঠিক আগের ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করে আনন্দের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। ২২তম ওভারের শেষ বলে তাসকিনকে অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে সহজ ক্যাচ দেন ১৩ রান করা গ্রিন। প্রথম সেশন শেষে ৭ রানে অপরাজিত আছেন স্টিভেন স্মিথ। তবে স্মিথ যখন ২ রানে ছিলেন, তখন ইবাদতের বলে তৃতীয় স্লিপে তাঁর ক্যাচ হাতছাড়া করেন তানজিদ হাসান তামিম। নিচু হয়ে আসা ক্যাচটি লুফে নিতে পারলে বাংলাদেশ আরও বড় সাফল্য পেতে পারত। প্রথম সেশনে বাংলাদেশের তিন পেসারই ছিলেন দুর্দান্ত। তাসকিন আহমেদ ৮ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ১টি, হাসান মাহমুদ ৭ ওভারে ২৫ রান দিয়ে ২টি এবং ইবাদত হোসেন ৭ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ১১.৪ ওভার থেকে ২২ ওভার—এই ৬২ বলের মধ্যে মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই ৪টি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকেরা। এর আগে ১১.৪ ওভার থেকে ১৮.২ ওভারের মধ্যে মাত্র ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল তারা। ম্যাচের আগে মারারা স্টেডিয়ামের উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপেনার ট্রাভিস হেড বলেছিলেন, ‘দেখে বেশ শক্ত মনে হচ্ছে। ঘাসও আছে।’ সেই ঘাসের সুবিধা দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। চোটের কারণে এই সিরিজে খেলতে পারছেন না পেসার নাহিদ রানা, যাকে বাংলাদেশ দল নিশ্চিতভাবেই মিস করছে। এর আগে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নামার সময় বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘এখানে থাকতে পেরে ভীষণ গর্বিত। খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’ অন্যদিকে প্যাট কামিন্স বলেন, ‘এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম।’ উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর দুই দেশের বাকি চারটি টেস্টই অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের মাটিতে—যা ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে করিয়ে দেয় ২০০৩-এর দুঃস্বপ্ন আর ২০১৭-এর (2017) ইতিহাস। এই সিরিজের আগে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। এছাড়া মারারা স্টেডিয়ামেও দীর্ঘ ২২ বছর পর কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খেলা শুরুর আগে ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার জেসন গিলেস্পি। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক দ্বিশতকের ২০ বছর পূর্তি হলো এ বছর। তবে টসের সময় ধারাভাষ্যকার ভুল করে বাংলাদেশ অধিনায়কের নাম ‘মুমিনুল হক সৌরভ’ বলে উল্লেখ করেন। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ দল মাঠে নেমেছে তিন পেসার ও দুই স্পিনার নিয়ে। বাংলাদেশ একাদশে আছেন তানজিদ হাসান, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও হাসান মাহমুদ। অন্যদিকে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড। তাসকিন ৮-১-২৬-১হাসান ৭-১-২৫-২ইবাদত ৭-২-১৭-১.তাসকিনও যোগ দিলেন উইকেট নেওয়ার আনন্দ-উদ্যাপনে!২২ তম ওভারের শেষ বলে তাসকিনকে অন সাইডে ওপরে খেলতে গিয়ে শর্ট মিড উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিন। স্মিথ ৭ রানে অপরাজিত।.৪০.১১.৪ ওভার থেকে ১৮.২ ওভার—এই ৪০ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। SHARES খেলাধুলা বিষয়: ইবাদত হোসেনডারউইন টেস্টতাসকিন আহমেদবাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়াবাংলাদেশ-ক্রিকেটহাসান মাহমুদ