সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আটজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। পরবর্তীতে অসুস্থ অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে দেখে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন। জাহাজের ভেতরে আরও মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন কারখানায় ঢুকে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের প্রকোপ এতটাই তীব্র ছিল যে, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা পর্যন্ত বিপাকে পড়েন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, গ্যাসের গন্ধের কারণে উপকূলের দিকে ফিরতে থাকা দুটি নৌকা কারখানার পাশের খালে ঢুকতে না পেরে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে গিয়ে নোঙর করতে বাধ্য হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, কারখানা থেকে দুই দফায় সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে আরও দুজনের মরদেহ পড়ে ছিল।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে কাটা হচ্ছিল এমন একটি জাহাজ আগে এলএনজি বহন করত। নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ কাটার আগে সেটিকে গ্যাসমুক্ত করা জরুরি ছিল। তিনি আরও বলেন, জাহাজের ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস থাকতে পারে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং কারখানায় শ্রমিকদের দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থাই এই প্রাণহানির প্রাথমিক কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন জানান, তিনি জানতে পেরেছেন জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী অসতর্কতার কারণে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বিস্তারিত জানতে কারখানায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।