স্প্যানিশ ফুটবলের সাফল্যের নেপথ্যে লা লিগার একাডেমি মডেল

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২৬

স্পেনের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা হাজারো মাঠে ধুলো-কাদায় বেড়ে ওঠা কিশোররাই আজকের বিশ্বজয়ী ফুটবলার। লা লিগা কর্তৃপক্ষ তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণাপত্রে এই সাফল্যের গাণিতিক ও কাঠামোগত ভিত্তি তুলে ধরেছে। গত এক দশকের সাফল্য এবং তরুণ প্রতিভা গড়ার বিনিয়োগের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউরোপের সবচেয়ে সফল জাতীয় দল এখন স্পেন। পুরুষ, নারী ও যুব দল মিলিয়ে এই সময়ে তারা মোট ২৩টি শিরোপা জিতেছে। জার্মানি ৯টি, ইংল্যান্ড ৭টি, এবং ফ্রান্স ও পর্তুগাল ৬টি করে শিরোপা নিয়ে স্পেনের চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।

এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে ক্লাব, ফেডারেশন ও লিগের সমন্বিত পরিকল্পনা। বিশেষ করে ২০১৬ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হয়েছে এবং ২০২২ সালে চালু হয়েছে জাতীয় একাডেমি উন্নয়ন পরিকল্পনা। লা লিগার ফুটবল প্রজেক্টস বিভাগের প্রধান হুয়ান ফ্লোরিত জানান, দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব দর্শন বজায় রেখে একাডেমির মান বাড়ানো হয়েছে। এর প্রমাণ মিলেছে ২০২৬ বিশ্বকাপজয়ী স্পেন দলে, যেখানে ২৬ জনের মধ্যে ২৫ জনই বিভিন্ন একাডেমি ব্যবস্থার মাধ্যমে উঠে এসেছেন। এই খেলোয়াড়দের গড়ে তোলার পেছনে সরাসরি অবদান রেখেছে লা লিগার ১১টি ক্লাব। উল্লেখ্য, স্পেনের এই বিশ্বকাপজয়ী দলে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় নেই।

আর্থিকভাবেও এই মডেল অত্যন্ত কার্যকর। একাডেমি থেকে উঠে আসা এসব খেলোয়াড় পরবর্তী সময়ে অন্য ক্লাবে পাড়ি দিয়ে ৪৬ কোটি ৬০ লাখ ইউরোরও বেশি আয় এনে দিয়েছে, আর বর্তমানে নিজ ক্লাবে থাকা নয়জন খেলোয়াড়ের বাজারমূল্য প্রায় ৫৪ কোটি ৫০ লাখ ইউরো। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে লা লিগা একাডেমি স্নাতকদের সবচেয়ে বেশি সময় (২০.১ শতাংশ) খেলার সুযোগ দিয়েছে। এই তালিকায় ফ্রান্স ১৬.১ শতাংশ, জার্মানি ১১.৯ শতাংশ, ইংল্যান্ড ৮.৩ শতাংশ এবং ইতালি ৭.৬ শতাংশ নিয়ে পেছনে রয়েছে।

একাডেমি স্নাতকদের সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেওয়া ক্লাবগুলোর মধ্যে ২০২৫-২৬ মৌসুমে শীর্ষে রয়েছে অ্যাথলেতিক বিলবাও (৬৯.৫ শতাংশ), এরপর রিয়াল সোসিয়েদাদ (৫৫.২ শতাংশ), বার্সেলোনা (৪৭.৫ শতাংশ), সেল্তা ভিগো (৪৩.১ শতাংশ), ওসাসুনা (২৬.১ শতাংশ) ও সেভিয়া (২৫.০ শতাংশ)। ভ্যালেন্সিয়া ২৩.৮ শতাংশ আর রিয়াল মাদ্রিদ ২৩.১ শতাংশ নিয়ে তাদের পরে রয়েছে। দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর মধ্যে মালাগা ৫৭.৩ শতাংশ, রেসিং ক্লাব ২১.৪ শতাংশ এবং দেপোর্তিভো লা করুনিয়া ১৭.৭ শতাংশ সময় একাডেমি খেলোয়াড়দের দিয়েছে।

স্প্যানিশ একাডেমিগুলোর বিশেষত্ব হলো খেলোয়াড়দের বহুমুখী মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। ইউরো ও বিশ্বকাপের মতো ভিন্ন ভিন্ন ঘরানার টুর্নামেন্টে একই খেলোয়াড়রা ভিন্ন কৌশলে খেলে সাফল্য এনেছেন, যা তাদের ‘সম্পূর্ণ খেলোয়াড়’ হিসেবে গড়ে ওঠার পরিচয় দেয়। বর্তমানে লা লিগা এই সফল মডেলটি চীন, ইরাক, ভিয়েতনাম ও পেরুর মতো দেশগুলোতেও ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা বিশ্ব ফুটবলে স্পেনের প্রভাবকে আরও সুসংহত করছে।

২০২৪ ইউরো জেতা দল আর ২০২৬ বিশ্বকাপ জেতা দলের তুলনা করলেই যা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, প্রতিভা লালনের এই স্প্যানিশ মডেল বিশ্ব ফুটবলেই যেন এখন অনুকরণীয় এক উদাহরণ।.২০৩০ পর্যন্ত বার্সেলোনায় রদ্রি