সিপিএল অভিষেকেই মিরাজের বাজিমাত, তাহিরের ৫ উইকেটে গায়ানার জয়

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেক ম্যাচেই বল হাতে দারুণ দ্যুতি ছড়ালেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ও ৪৭ বছর বয়সী লেগস্পিনার ইমরান তাহিরের ঘূর্ণি জাদুতে সেন্ট লুসিয়া কিংসকে হারিয়ে আবারও জয়ের ধারায় ফিরেছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। কম রানের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে গায়ানা ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে।

এই জয়ের সুবাদে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৬ মৌসুমের সিপিএল লিগ পর্বের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যান্টিগা ও বারবুডা ফ্যালকনসের চেয়ে তারা এক পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। প্লে-অফের আগে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স ও বারবাডোস ট্রাইডেন্টসের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে গায়ানা। অন্যদিকে সেন্ট লুসিয়া কিংসের এটি টানা তৃতীয় হার।

১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ৯৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চরম চাপে পড়েছিল গায়ানা। শেষ ১৭ বলে যখন ২২ রান প্রয়োজন, তখন কুইন্টন স্যাম্পসন মাত্র ১১ বলে খেলেন অপরাজিত ৩৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস। ৫টি ছক্কা ও ১টি চারে সাজানো এই ইনিংসে ভর করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছান তিনি। নিজের মুখোমুখি হওয়া শেষ চার বলে ছক্কা, ছক্কা, চার ও ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন স্যাম্পসন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি সেন্ট লুসিয়া কিংস। প্রথম ছয় ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা ৫১ রান তোলে। তবে এরপরই গায়ানার বোলারদের দাপট শুরু হয়। অভিষেক ম্যাচেই নিজের প্রথম ওভারে উইকেট শিকার করেন মিরাজ। এরপর ইমরান তাহির ফেরান দারুণ খেলতে থাকা কামিল পুরানকে (৩৫ বলে ৪৩ রান)। পরের বলেই তাহির আউট করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক রস্টন চেজকে (১)। একাদশ ওভারে বোলিংয়ে এসে কেমল স্যাভরি ও চরিথ আসালঙ্কাকে সাজঘরে পাঠান মিরাজ। এতে ৬৪ রানে ৪ উইকেট থেকে দ্রুতই ৭২ রানে ৬ উইকেটে পরিণত হয় সেন্ট লুসিয়ার স্কোর।

এরপর সেন্ট লুসিয়ার লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের একাই ধসিয়ে দেন ইমরান তাহির। একে একে ম্যাককেনি ক্লার্ক ও ম্যাথু ফোর্ডকে শূন্য রানে বোল্ড করার পর জশুয়া বিশপকেও আউট করেন তিনি। এর মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পঞ্চমবারের মতো এবং সিপিএলে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন ৪৭ বছর বয়সী এই স্পিনার। মিরাজ ও তাহির মিলে মাত্র ৩০ রান খরচায় প্রতিপক্ষের ৮টি উইকেট নেন, যেখানে তারা ডট বল দিয়েছেন মোট ২৮টি।

জবাবে ১২০ রান তাড়া করতে নেমে গায়ানার শুরুটা ছিল বেশ মন্থর। প্রথম তিন ওভারে আসে মাত্র ১২ রান এবং পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ২৩ রান। ১১ ওভার শেষেও দলটির স্কোর ৫০ পেরোতে পারেনি। ৩৬ বলের বাউন্ডারি খরা কাটিয়ে রস্টন চেজের বলে ছক্কা মারেন গ্লেন ফিলিপস। পরে মহীশ তীক্ষণাকেও আক্রমণ করতে গিয়ে ৪০ বলে ৩৭ রান করে বোল্ড হন ফিলিপস। এরপর দ্রুত শাই হোপ ও মেহেদী হাসান মিরাজ বিদায় নিলে ১৫ ওভারে গায়ানার স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭১ রান।

শেষ ৩০ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৮ রান। ১৬তম ওভারে চরিথ আসালঙ্কাকে একটি করে ছক্কা মারেন শিমরন হেটমায়ার ও স্যাম্পসন। ১৮তম ওভারে হেটমায়ার এবং ১৯তম ওভারে রোমারিও শেফার্ড আউট হলেও স্যাম্পসন বাকি পথটা অনায়াসেই পাড়ি দেন এবং গায়ানাকে এনে দেন দুর্দান্ত এক জয়।