বাংলাদেশিদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা সহজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, কর্মী, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে উভয় দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভিয়েতনামের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। সাক্ষাৎকালে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, তাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে এবং উন্নয়ন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দু’দেশের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। আর সে কারণেই অংশীদারিত্বের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা দরকার। সাক্ষাৎকালে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত গুয়েন ম্যানহ কুঅং দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপন, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন এবং উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ভিয়েতনাম সফরের আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি এই আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর ভিয়েতনাম সফরের উষ্ণ আতিথেয়তার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও শক্তিশালী হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক করার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে উৎপাদিত বিশ্বমানের ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, বাইসাইকেল, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করার জন্য ভিয়েতনামের প্রতি আহ্বান জানান। বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে তাঁর সফল কর্মকাল এবং বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরও তিনি দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতের সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করার পাশাপাশি ভিয়েতনামের জনগণের অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই বিদায়ী সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ভিয়েতনামের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ১৭:২৭ মিনিটে (17 September 2026, 17:27) এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়। SHARES জাতীয় বিষয়: বঙ্গভবনবাংলাদেশ-ভিয়েতনাম সম্পর্কবিদায়ী রাষ্ট্রদূতভিয়েতনামের ভিসামির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররাষ্ট্রপতি