স্থগিত হলো ‘নৌকা’ প্রতীক, একক প্রার্থীর আসনে থাকছে ‘না’ ভোট

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সংশোধনীতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোনো আসনে একক প্রার্থী থাকলে সেখানে ‘না’ প্রতীক ব্যবহারের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯৪ অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতাবলে ইসি এই সংশোধন এনেছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, স্থগিত প্রতীক ছাড়া কমিশনের তালিকায় থাকা অন্য যেকোনো প্রতীক প্রার্থীদের বরাদ্দ দেওয়া যাবে। তবে কমিশনের তৈরি প্রতীকের তালিকায় ‘নৌকা’ প্রতীকের পাশে এখন থেকে ‘স্থগিত’ শব্দটি লেখা থাকবে।

প্রতীক স্থগিত বা সংযোজনের পাশাপাশি প্রার্থীদের হলফনামা দাখিলের নিয়মেও বড় পরিবর্তন এনেছে ইসি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া এখন আর বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি ঐচ্ছিক করা হয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের আয়কর রিটার্নের তথ্য জমা না দিলেও তা আইনগতভাবে বৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া ৩(গ) অনুচ্ছেদে ‘অভিযুক্ত’ শব্দের ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়েছে। এখন থেকে কেবল সেই আসামিকেই অভিযুক্ত বলা যাবে, যার বিরুদ্ধে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ বা অভিযোগ গঠন করেছেন।

ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত প্রার্থীদের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার নিয়মও শিথিল করা হয়েছে। আগে জামিনে থাকা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে আদালত থেকে সত্যায়িত অনুলিপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও এবার তা সহজ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা প্রার্থীরা এখন থেকে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হলফনামাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়িত করে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে পারবেন।

নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ইসি সংশোধনী এনেছে। তফসিল-১-এর ফরম-১-এর তৃতীয় অংশে থাকা ‘মনোনীত প্রার্থী কর্তৃক ঘোষণা’র জায়গায় এখন থেকে প্রার্থীরা নিজেদের অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তাদের মনোনীত নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশোধিত এই নিয়মগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা পুরোপুরি প্রযোজ্য হবে।