আইসিসিতে প্রথমবার সশরীরে হাজির যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত রড্রিগো দুতের্তে

প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৮১ বছর বয়সী রড্রিগো দুতের্তেকে প্রথমবারের মতো নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে (আইসিসি) সশরীরে উপস্থিত করা হয়েছে। কালো স্যুট ও সাদা শার্ট পরিহিত দুতের্তে বুধবার আদালতে হাজিরা দেন। দেড় বছর আগে ম্যানিলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এটিই ছিল আদালতে তার প্রথম সশরীরে উপস্থিতি। এর আগের শুনানিগুলোতে তিনি ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন অথবা অনেক শুনানি এড়িয়ে গেছেন। এদিন আদালতে কোনো কথা না বললেও পাবলিক গ্যালারিতে থাকা নিজের পরিবারের সদস্যদের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি।

২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন দুতের্তে মাদকের বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এই অভিযানে স্বল্প সময়ে হাজার হাজার কথিত মাদক ব্যবসায়ীকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১১ সালের ১লা নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ১৬ই মার্চ পর্যন্ত সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো আইসিসির আমলে রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৬ই মার্চ তিনি আইসিসি থেকে ফিলিপাইনের সদস্যপদ প্রত্যাহার করে নেন।

বিচার প্রক্রিয়ায় দুতের্তের আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, তাদের মক্কেলের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং তিনি গুরুতর স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভুগছেন। আইনজীবী পিটার হাইনেস দাবি করেন, দুতের্তে বর্তমানে ২০০৭ বা ২০০৮ সালের স্মৃতিতে বেঁচে আছেন এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের নামও স্মরণ করতে পারছেন না। তবে প্রসিকিউটররা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বর্তমানে আদালত তিনজন মেডিকেল বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে দুতের্তের বিচার করার মতো মানসিক সুস্থতা আছে কিনা তা যাচাই করছেন। এই বিশেষজ্ঞ দলের মূল্যায়ন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আইসিসি আগামী ৩০শে নভেম্বর তার বিচারের প্রথম ট্রায়াল তারিখ নির্ধারণ করেছে।

ম্যানিলায় সরাসরি সম্প্রচারিত এই বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন মাদকবিরোধী অভিযানের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। লোরে পাসকো, যার দুই ছেলেকে এই অভিযানে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি রয়টার্সকে বলেন, দুতের্তেকে সুস্থ অবস্থায় আদালতে দেখে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। এছাড়া টিনেজ ভাতিজাকে হারানো র‌্যান্ডি ডিলোস স্যান্তোস এএফপিকে জানিয়েছেন, দুতের্তের উপস্থিতি তাকে সন্তুষ্ট করেছে এবং তিনি এখন বিচারের গতি বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন।