বড়লেখায় জিন্নী হুজুরের নামে প্রতারণা: গ্রেফতার ৪, উদ্ধার ৫ ভরি স্বর্ণ

প্রকাশিত: ৪:০৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অসুস্থ ছেলেকে সুস্থ করে তোলার অলৌকিক প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৭১২ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেছে একটি প্রতারক চক্র। প্রতারণার শিকার ওই নারীর খোয়া যাওয়া সমস্ত অলংকার উদ্ধারসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন বড়লেখা উপজেলার আহমদপুর গ্রামের ৬০ বছর বয়সী করবুল নেছা ও হিনাইনগর গ্রামের ৪৫ বছর বয়সী তাজ উদ্দিন এবং প্রতিবেশী জুড়ী উপজেলার আমতৈল গ্রামের ৪৮ বছর বয়সী বিজয় বৈদ্য ও হরিরামপুর গ্রামের ৩৮ বছর বয়সী রিপন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গত ১ নভেম্বর বড়লেখা ও জুড়ী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। অভিযানের সময় আসামিদের হেফাজত থেকে একটি সিতাহার, দুই জোড়া ঝুমকা এবং একটি আংটি উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণালংকার ভুক্তভোগী নারী নিজে শনাক্ত করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট অজ্ঞাত পরিচয় এক নারী বড়লেখার হিনাইনগর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগমকে ফোন করে জানান যে, তাঁর অসুস্থ ছেলেকে কথিত ‘জিন্নী হুজুর’ চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে পারবেন। তবে এজন্য বিষয়টি গোপন রাখার শর্ত দেওয়া হয় এবং কাউকে জানালে ছেলের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখানো হয়। ছেলের সুস্থতার আকুলতায় রোকেয়া বেগম ওই নারীর নির্দেশনা মেনে নিজ বসতঘরের পেছনের ডিপ টিউবওয়েলের ম্যানহোলের ঢাকনায় একটি পরিষ্কার বাটিতে করে স্বর্ণালংকার রেখে আসেন। দুই ঘণ্টা পর সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন গহনাগুলো আর নেই। পরবর্তীতে ফোনের মাধ্যমে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয় যে ‘জিন্নী মুমিন’ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন এবং এক মাসের মধ্যে ছেলে সুস্থ হওয়ার পর গহনা ফেরত দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে গত ১৬ অক্টোবর একই নারী পুনরায় ফোন করে আগের স্থানেই আরও স্বর্ণালংকার রাখার নির্দেশ দেন। এবার বলা হয়, গহনা না রাখলে ছেলে পাগল হয়ে যাবে, আর রাখলে এক ঘণ্টার মধ্যেই আগের ও নতুন সব গহনা ফেরত পাওয়া যাবে। ছেলের ক্ষতির ভয়ে রোকেয়া বেগম দ্বিতীয় দফাতেও গহনা রেখে এলে সেগুলোও গায়েব হয়ে যায়। এভাবে দুই দফায় সর্বমোট ৫ ভরি ৬ আনা ২ রতি ২ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণ হাতিয়ে নেয় চক্রটি।

প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ কামরুল ইসলাম, এএসআই প্রসেন কান্তি দাস ও এএসআই সন্তোষ কুমার বিশ্বাসের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। প্রথমে বড়লেখার আহমদপুর ও হিনাইনগর থেকে করবুল নেছা ও তাজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জুড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিজয় বৈদ্য ও রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১ নভেম্বর বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে ২ নভেম্বর আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।

নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected] কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত