ভারি বৃষ্টিতে ডুবল ঢাকার বহু এলাকা, জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম (2026-09-20 09:43) ভোরে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাতে তলিয়ে গেছে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দমকা বাতাসের সঙ্গে এই ভারি বর্ষণ শুরু হয়। প্রথমে তীব্র বাতাসের সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে বজ্রপাত হলেও পরে বাতাসের গতি কমে আসে, তবে বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। এই আকস্মিক বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নগরবাসী। বৃষ্টির পানিতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, Maniknagar, তালতলা, মতিঝিল, মালিবাগ, আরামবাগ, গুলিস্তান ও পল্টনের মতো এলাকাগুলোতে। খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ, গোড়ান ও মুগদার সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। আরামবাগ মোড় থেকে ফকিরাপুল ও কাকরাইল সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যান চলাচল থমকে যায়। মালিবাগের প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উপচে পানি ঢুকে পড়েছে সেখানকার দোকানপাটে। একই অবস্থা তৈরি হয়েছে মানিকনগরের ব্যবসায়িক এলাকায়, যেখানে দোকানে পানি ঢোকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীতে রিকশা ও গণপরিবহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গণপরিবহনের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার অনেকে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। মতিঝিলের রিকশাচালক মোতালেব হোসেন নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, "পানি এত বেশি যে প্যাডেল মারা যায় না। আবার কোথাও সড়কে গর্ত রয়েছে কি না, সেটিও বোঝা যায় না।" অন্যদিকে গোড়ান এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ জানান, এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি কোনো রিকশা পাননি। আর রিকশা পাওয়া গেলেও স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দাবি করা হচ্ছে। নগরবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই প্রতিবছর বর্ষায় এই একই ভোগান্তির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গোড়ান রোডের বাসিন্দা তানজিল হোসেন বলেন, "ছোটবেলা থেকেই এ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখে আসছি। বড় বড় পাইপ বসানো হলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। প্লাস্টিক, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্য পাইপে জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে।" অপর বাসিন্দা আব্দুল মালেকও একই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "নতুন ড্রেন নির্মাণ করেই অনেক ক্ষেত্রে দায়িত্ব শেষ করা হয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় এবং খোলা ডাস্টবিনের বর্জ্য পাইপলাইনে জমে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।" এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জোর দাবি জানিয়েছেন। SHARES রাজধানী বিষয়: খিলগাঁওঢাকার জলাবদ্ধতানগরবাসীর ভোগান্তিভারি বৃষ্টিপাতমতিঝিলরামপুরা