মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের পর সতর্ক অবস্থানে পুলিশ, প্রস্তুত জলকামান প্রকাশিত: ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৬ রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা দুই দিনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। রোববার সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মিরপুরে শ্রমিকদের নতুন করে কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামানসহ বিভিন্ন যানবাহন এনে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে মিরপুর-১০ ও এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন পুলিশ সদস্যরা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা প্রস্তুত আছেন। বর্তমানে ওই এলাকার সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করছেন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে। মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি ও পুলিশের সতর্ক অবস্থান নিয়ে আজ সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-উত্তর) মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। রোববার সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মহিদুল ইসলাম আরও জানান, রোববারের ঘটনায় শুধু শ্রমিকরাই জড়িত ছিলেন না; তদন্তে শ্রমিকদের পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আইন অমান্য করে দেশের ক্ষতি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে বিভিন্ন স্থানে যারা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রোববার সকাল আটটার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে আশপাশের এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। পরে শ্রমিকেরাও বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। দুপুর পৌনে ১২টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। দুপুরের দিকে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরে সড়ক অবরোধ করেছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত মিরপুর-১০, ১১ ও ১২ নম্বরসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৯ জন আটক হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। SHARES রাজধানী বিষয়: ঢাকাপুলিশপোশাকশ্রমিকবিক্ষোভমিরপুর