পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন পাওনা টাকা প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ দেশের পুঁজিবাজারে অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির শিকার হওয়া বিনিয়োগকারীদের পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার বড় উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। খেলাপি হওয়া পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের ১৭ হাজার ৩৩২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর মোট ৭২ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধ করা হবে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ দেওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। ডিএসই চেয়ারম্যান জানান, বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) থেকে গ্রাহকদের এই পাওনা পরিশোধ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী তাঁদের বিনিয়োগের পুরো টাকা ফেরত পাবেন। সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার ও আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম উপস্থিত ছিলেন। যে পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা এই সুবিধা পাচ্ছেন সেগুলো হলো মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। ডিএসই জানায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। এর আগে আইপিএফ ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর যৌথ উদ্যোগে ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকা ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী তাঁদের শতভাগ পাওনা বুঝে পাবেন। বাকি ৫৯৫ জন বড় বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকার বেশি পাওনা উদ্ধারের জন্য খেলাপি হাউসগুলোর শেয়ার, সম্পত্তি ও পরিচালকদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রির আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন, প্রয়োজনে আইপিএফের মাধ্যমে এই ৫৯৫ জনকেও পুরো টাকা পরিশোধ করা হবে। মশিউর সিকিউরিটিজের গ্রাহকদের টাকা ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে দেওয়া শুরু হবে এবং অন্য চার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের টাকা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, এটি বিনিয়োগকারীদের হারানো আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে। আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম জানান, এটি কোনো অনুদান নয়, বরং আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করা দাবির বিপরীতে সেটেলমেন্ট। সংবাদ সম্মেলনে বাজারের মন্দাভাব দূর করতে নতুন পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়। এর মধ্যে সরাসরি তালিকাভুক্তির নিয়মের খসড়া চূড়ান্ত করা এবং আইপিও নীতিমালা সহজ করার প্রস্তাব অন্যতম। বন্ড লিস্টিং ফি কমিয়ে ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধাও ঘোষণা করা হয়েছে। ডিএসইর লক্ষ্য, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বা ব্লু চিপ কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত করা। SHARES অর্থনীতি বিষয়: ডিএসইপুঁজিবাজারবিনিয়োগকারীব্রোকারেজ হাউসশেয়ারবাজার