পরিবেশ উপেক্ষা করে উন্নয়ন প্রকল্প চালাচ্ছে সরকার: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬

বর্তমান গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মধ্যে আগের সরকারের মতোই জনস্বার্থ, পরিবেশ ও প্রাণ-প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত সাত মাসে সরকারের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে এই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়ছে এবং জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার পরিবর্তে সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যা প্রাকৃতিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি কাণ্ডজ্ঞানহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, সমুদ্রের স্রোত ও তীব্রতার কারণে এই রাস্তা টেকসই হবে না এবং এটি মূলত কিছু মানুষের অর্থ উপার্জনের প্রকল্প।

মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ এবং সোনাদিয়া দ্বীপে প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের তৈরির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় তহবিল চাইলেও, সেই অর্থ দিয়ে পরিবেশের আরও ক্ষতি করা হচ্ছে। তিনি চকরিয়া সুন্দরবনের বিলুপ্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের রক্ষাকবচ ছিল, যা অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে ধ্বংস হয়েছে।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রী পরিবেশ আইন রক্ষা করে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন এবং সম্প্রতি মীর শাহে আলম আদালতের সড়ক নির্মাণ স্থগিতাদেশে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। সরকারকে এই আত্মঘাতী পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মূল প্রবন্ধে কক্সবাজারের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। বাপার পক্ষ থেকে সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়িতে রাস্তা নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ, হাইকোর্টের মামলা নং ২২৬/২০১১-এর রায় ও নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ এবং বালিয়াড়িতে প্রকল্প নেওয়ার আগে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞ মতামত বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া মহেশখালীর সংরক্ষিত বনের ভেতরে সড়ক নির্মাণ বন্ধ এবং সোনাদিয়া দ্বীপের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধারের দাবি জানানো হয়। বাপার কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে এবং সমুদ্রের জায়গা দখল করে প্লট বাণিজ্যের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কথা বললেও তার নির্দেশ অমান্য করে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলছে। বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার সরকারের কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ২০ মিনিটের ভাষণের মধ্যে ১০ মিনিট কথা বলেছেন পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে।

যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেরিন ড্রাইভের ৩ হাজার গাছ রক্ষা পায়, সেখানে বনের ভেতরে গাছ ও পাহাড় কাটার আয়োজন কীভাবে হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপার সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদার।