সৌদি আরবের সুরক্ষায় যেকোনো উপায়ে পাশে থাকবে পাকিস্তান: খাজা আসিফ প্রকাশিত: ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬ সৌদি আরবের ওপর যেকোনো ধরনের হুমকি এলে তাকে রক্ষায় পাকিস্তান তার হাতে থাকা ‘যেকোনো উপায়’ ব্যবহার করতে প্রস্তুত। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবে একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার তিনি জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের মক্কা চুক্তির আওতায় যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দেশটির প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসতে পাকিস্তান বাধ্য। ইসলামাবাদের হাতে থাকা সব ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজনে রিয়াদের জন্য ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্য দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করেছে। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে রক্ষা করতে আমরা বাধ্য। এর অর্থ হলো, আমাদের হাতে যে ধরনের উপায় ও সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলো সৌদি আরবের জন্যও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। হুতিদের আগ্রাসনের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থানে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সৌদি আরব যেকোনো সংঘাতে পড়লে আমরা তাদের সহায়তায় থাকব। সেটি হুতিদের কাছ থেকে আসুক, কোনো দেশ থেকে আসুক কিংবা সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে এমন অন্য কোনো গোষ্ঠী থেকে আসুক না কেন, আমরা তাদের রক্ষায় পাশে থাকব। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবের যেকোনো শত্রু পাকিস্তানের শত্রু এবং এই অবস্থানটি খুবই পরিষ্কার হওয়া উচিত। ইরানের সঙ্গে হুতিদের সম্পর্কের বিষয়ে খাজা আসিফ বলেন, তেহরান হুতিদের নিজেদের প্রক্সি হিসেবে স্বীকার করে না। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী একপর্যায়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তিনি বলেন, কোনো দেশ একটি প্রক্সি গোষ্ঠী তৈরি করার পর সময়ের সঙ্গে সেই গোষ্ঠী নিজেদের এজেন্ডা ও সক্ষমতা তৈরি করে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়তে পারে। ২০১৫ সালে ইয়েমেন যুদ্ধ তীব্র হওয়ার পর থেকে হুতিরা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে হুতিরা সৌদি আরামকোর আবকাইক তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা ও খুরাইস তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করে, যার ফলে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ২০২২ সালের মার্চ এবং সাম্প্রতিক সময়েও গোষ্ঠীটি সৌদি ভূখণ্ডে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা দেশটির কয়েকটি শহরকে প্রভাবিত করেছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট (এমজেডিএ)-এর আওতায় সম্মিলিত প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এর একদিন পর সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যৌথ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার বিষয়ে বৈঠক করেন। এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর খাজা আসিফ মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে রক্ষা করা পাকিস্তানের জন্য একটি ধর্মীয় দায়িত্ব। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, কোনো চুক্তি না থাকলেও যদি মক্কা ও মদিনার পবিত্র নগরী আক্রান্ত হয়, তাহলে আমরা আল্লাহর ঘর ও মদিনাকে রক্ষা করতে চিরন্তন অঙ্গীকারের অধীনে আবদ্ধ। SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: খাজা আসিফপাকিস্তানপ্রতিরক্ষা চুক্তিপ্রতিরক্ষামন্ত্রীসৌদি-আরবহুতি