সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারে নতুন সুরক্ষা প্রস্তাব প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬ সাইবার সুরক্ষা আইনকে নিপীড়নমূলক হওয়া থেকে রক্ষা করতে আইনটির সংশোধনীতে নতুন কিছু প্রস্তাব যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি বা ভিকটিমাইজেশনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে তাদের গ্রেপ্তারের আগে আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে হয়রানি ও ভিকটিমাইজেশন ঠেকাতে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়াটি ইতোমধ্যেই মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে। মন্ত্রিসভার নির্দেশ অনুযায়ী, এই আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক না হয়, সেজন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনটি সমৃদ্ধ ও সর্বজনীন করার উদ্দেশ্যে খসড়া বিলটি সরকারি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করে সবার মতামত চাওয়া হয়েছে। ওয়েবসাইটে অনেকেই মতামত দিয়েছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান মতামত দিয়েছে, অনেক মানবাধিকার সংগঠন, হিউম্যান রাইটস বডিজ মতামত দিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী মতামত দিয়েছে, সেটা আমরা কম্পাইল করেছি। গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সাথে এটি ছিল দ্বিতীয় দফার বৈঠক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিক, সম্পাদক এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে। সম্পাদক মাহফুজ আনাম এই বৈঠকে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে মতামত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা যেন এই আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সেজন্য আইনের ভেতরেই সুরক্ষা বা ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে সংশোধনী আনার জন্য খসড়া রেডি করেছিলাম, সেটা কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনাদের সাথে বৈঠকে, সম্পাদকদের সাথে বৈঠকে গত ১০ তারিখে সিদ্ধান্ত হয়েছিল আপনারা পরবর্তী মিটিংয়ে আপনাদের সুস্পষ্ট মতামত লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটে অথবা সরাসরি মিটিংয়ে আমাদের কাছে প্রদান করবেন। সংশোধনীর অন্যান্য দিক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে কোনো ভুক্তভোগীকে অনির্দিষ্টকাল আইনি জটিলতায় ঝুলে থাকতে না হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয়ের জন্য পিআইও-কে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল মিলে এই বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করবে। আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছ থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে সরকার আশা করছে। এরপর সব অংশীজনদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, খসড়াটি মন্ত্রিসভায় চূড়ান্তভাবে উপস্থাপনের আগে পুনরায় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং সংসদে উত্থাপনের পরও কোনো তাড়াহুড়ো না করে দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার সুযোগ রাখা হবে। বিরোধী দল ও সরকারি দলের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কেবিনেট আলোচনার পর সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমরা যেন সমস্ত সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে এটা আলোচনা করি এবং যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইটি এক্সপার্ট, তাদের সাথে আমরা কথা বলি। অনেকেই বক্তব্যের সাথে বলেছেন যে আপনারা লিখিত মতামতটা দিয়ে যাবেন, আমরা আশা করি পেয়ে যাব। SHARES আইন আদালত বিষয়: আইন আদালতসংশোধনীসাংবাদিকসাইবার সুরক্ষা আইনসালাহউদ্দিন আহমদ